মহীরুহের বিদায়, টুটু বোসের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে রাজনীতির রং মুছে একাসনে তারকা থেকে প্রফুল প্যাটেলরা! – এবেলা

মহীরুহের বিদায়, টুটু বোসের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে রাজনীতির রং মুছে একাসনে তারকা থেকে প্রফুল প্যাটেলরা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

গত ১২ মে গভীর রাতে চিরঘুমের দেশে পাড়ি দিয়েছেন স্বপনসাধন বোস ওরফে সকলের প্রিয় ‘টুটু বোস’। বালিগঞ্জের বোস বাড়িতে সম্পন্ন হলো ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর কর্ণধার তথা ময়দানের এই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের পারলৌকিক ক্রিয়া। বাংলার ক্রীড়াদুনিয়া, রাজনৈতিক মহল এবং টলিউডের সীমানা পেরিয়ে শুক্রবার সকাল থেকেই বালিগঞ্জের বোস বাড়িতে উপচে পড়েছিল বিশিষ্টজনদের ভিড়। প্রিয় মানুষের স্মরণে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে এক ছাতার তলায় এসে দাঁড়িয়েছিলেন সব রঙের প্রতিনিধিরা।

ভেদাভেদ ভুলে শেষ শ্রদ্ধায় রাজনৈতিক মহল

সকাল নয়টা নাগাদ শ্রাদ্ধানুষ্ঠান শুরু হতেই বোস পরিবারের পাশে দাঁড়াতে একে একে আসতে শুরু করেন শুভানুধ্যায়ীরা। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে গিয়ে ‘বাঙালির সিকান্দর’ টুটু বোসকে শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিম, তাপস রায় ও কুণাল ঘোষের মতো হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বরা। শুধু তৃণমূল বা বিজেপি নয়, সদ্য রাজনৈতিক ইনিংস শুরু করা শ্রেয়া পাণ্ডে থেকে শুরু করে বাম নেতা শতরূপ ঘোষও উপস্থিত ছিলেন এই পারলৌকিক ক্রিয়ায়। এছাড়াও সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি প্রফুল প্যাটেল ও মোহনবাগানের প্রাক্তনী হোসে রামিরেজ ব্যারেটোর উপস্থিতি ময়দানের সঙ্গে টুটু বোসের আত্মিক সম্পর্কের গভীরতাকেই আরেকবার প্রমাণ করেছে।

চাঁদের হাট বালিগঞ্জের বোস বাড়িতে

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বোস বাড়িতে ভিড় জমতে শুরু করে টলিউডের তারকাদের। শিবপুরের বিধায়ক তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ উপস্থিত হয়ে প্রয়াত স্বপনসাধন বোসের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। এরপরই হাজির হন টলিউড সুপারস্টার তথা তৃণমূল সাংসদ দেব। এছাড়াও ময়দানের এই মহীরুহকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়, অরিন্দম শীল, সংগীতশিল্পী অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়, প্রযোজক রানা সরকার এবং অভিনেত্রী সুদীপা চট্টোপাধ্যায়। ফুলের তোড়া অর্পণ করে বোস পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতিতে সমবেদনা জানান সাংসদ-অভিনেত্রী জুন মালিয়াও।

বাঙালির প্রিয় ‘সিকান্দর’ এবং তাঁর চিরস্থায়ী প্রভাব

স্বপনসাধন বোসের এই মহাপ্রয়াণ শুধু সংবাদ প্রতিদিন গোষ্ঠী বা ক্রীড়ামহলের জন্য নয়, সামগ্রিকভাবে বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের জন্য এক বড় ধাক্কা। ময়দান ও সংবাদ জগতের এক সুদীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটল তাঁর চলে যাওয়ায়। তবে দলমত নির্বিশেষে যেভাবে সমস্ত ক্ষেত্রের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং তারকারা তাঁর শেষকৃত্য ও শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে শামিল হলেন, তা স্পষ্ট করে দেয় যে তিনি কেবল একজন ব্যবসায়ী বা ক্রীড়া প্রশাসক ছিলেন না, বরং বাংলার সমাজজীবনে এক প্রকৃত অভিভাবক ও মেলবন্ধনের প্রতীক ছিলেন। তাঁর এই উদার মানসিকতা এবং সবাইকে আপন করে নেওয়ার ক্ষমতা আগামী দিনেও বাংলার সংস্কৃতি ও ক্রীড়াক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *