মাদ্রাসায় বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক করার সরকারি নির্দেশে তীব্র ক্ষোভ, প্রতিবাদের ঝড়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত মাদ্রাসায় প্রার্থনার সময় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করে রাজ্য সরকারের জারি করা একটি নতুন নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জারি করা ওই আদেশে বলা হয়েছে, রাজ্যের সমস্ত স্বীকৃত, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং বেসরকারি মাদ্রাসায় ক্লাস শুরুর আগে প্রার্থনা সভায় ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে। সংখ্যালঘু বিষয়ক এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনস্থ সকল প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরই রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলির একাংশের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে।
সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব বিরোধী নেতৃত্ব
আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সভাপতি হুমায়ুন কবির এই আদেশের তীব্র বিরোধিতা করে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন যে, মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হবে না। ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার কোনো এক্তিয়ার সরকারের নেই দাবি করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, বাংলায় খোলা জায়গায় নামাজ ও পশু কোরবানি নিষিদ্ধ করার সরকারি আদেশের প্রেক্ষিতেও কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তিনি। তিনি সাফ জানান, কোরবানির প্রশ্নে মুসলিম সম্প্রদায় কোনো আপোস করবে না এবং ধর্মীয় রীতি মেনে কোরবানি চলবেই।
ধর্মীয় সংগঠনগুলির আপত্তি ও সরকারি যুক্তি
সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে কলকাতার বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনও। কলকাতা খিলাফত কমিটির প্রধান মহম্মদ আশরাফ আলী কাসমি জানান, সরকারের উচিত নয় ধর্মের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া। তাঁর মতে, মুসলমানরা দেশকে ভালোবাসলেও উপাসনা একমাত্র আল্লাহরই করে এবং ‘বন্দে মাতরম’-এর কিছু পঙ্ক্তি ইসলামি বিশ্বাসের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ না হওয়ায় তা চাপিয়ে দেওয়া সমীচীন নয়। তাঁরা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, এই নির্দেশিকার মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করা। এই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
