২০০০ টাকার ওষুধ মিলবে মাত্র ২০০ টাকায়! বাংলায় স্বাস্থ্য পরিষেবায় বিরাট বদল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচ কমাতে এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দিতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল নতুন রাজ্য সরকার। শনিবার এক উচ্চপর্যায়ের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের মধ্যে সস্তায় ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই নতুন জনকল্যাণমুখী উদ্যোগের ফলে এখন থেকে সাধারণ মানুষ বাজারে অত্যন্ত চড়া দামে বিক্রি হওয়া জীবনদায়ী ওষুধ বিপুল ছাড়ে কিনতে পারবেন।
ব্লক থেকে মহকুমা স্তরে ৪৬৯টি জনৌষধি কেন্দ্র
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী জনৌষধি প্রকল্প’-এর আওতায় খুব শীঘ্রই রাজ্যের ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে মহকুমা হাসপাতাল পর্যন্ত মোট ৪৬৯টি নতুন জেনেরিক ওষুধের সেন্টার বা কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে। এই কেন্দ্রগুলি চালু হলে ওষুধের পেছনে সাধারণ মানুষের মাসিক খরচের বোঝা এক ধাক্কায় প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাবে। সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেব দিয়ে জানান, বর্তমানে কোনো পরিবারে যদি মাসে ২০০০ টাকার ওষুধ লাগে, তবে এই জনৌষধি কেন্দ্রগুলি চালু হওয়ার পর সেই খরচ কমে মাত্র ২০০ টাকায় নেমে আসবে। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষ সরাসরি পাঁচ গুণ পর্যন্ত আর্থিক সুবিধা বা সাশ্রয় পাবেন। এর পাশাপাশি, ‘অমৃত’ প্রকল্পের আওতায় ক্যানসার বা হৃদরোগের মতো দুরারোগ্য ব্যাধির ওষুধের ক্ষেত্রেও ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য।
উদ্যোগের কারণ ও সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব
সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে যেভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় এবং জীবনদায়ী ওষুধের দাম লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়ছিল। বিশেষ করে ঘরে ঘরে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড কিংবা উচ্চ রক্তচাপের মতো ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা থাকায় প্রতি মাসেই একটা বড় অঙ্কের টাকা ওষুধের পেছনে খরচ করতে বাধ্য হচ্ছিলেন সাধারণ নাগরিকরা। এই লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর তৈরি হওয়া ক্ষোভকে প্রশমন করতেই মূলত সরকারের এই বড় সিদ্ধান্ত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। সস্তায় মানসম্পন্ন জেনেরিক ওষুধ মেলায় ওষুধের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার মতো ঘটনা কমবে। এছাড়া এই কেন্দ্রগুলি তৈরি করার জন্য নারী এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি (এসসি-এসটি) ভুক্ত উদ্যোক্তাদের কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক প্রণোদনা বা ইনসেনটিভ দেওয়া হয়, যার ফলে রাজ্যে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। সব মিলিয়ে, নিয়মিত ওষুধ কিনতে গিয়ে হিমশিম খাওয়া মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলি সরকারের এই ঘোষণায় বড়সড় স্বস্তির আলো দেখছে।
