লেটেস্ট নিউজ

অন্তর্বাস থেকে তেল মালিশ সব সামলাবেন ইঞ্জিনিয়াররা! বিএসএনএল ডিরেক্টরের রাজকীয় ‘সেবা’ ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিএসএনএল ডিরেক্টরের প্রয়াগরাজ ভ্রমণ ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে। সরকারি আধিকারিকের ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে যেভাবে প্রায় ৫০ জন ইঞ্জিনিয়ার এবং জুনিয়র টেকনিক্যাল অফিসারকে ‘সেবক’ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল, তা দেখে হতবাক সাধারণ মানুষ থেকে খোদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রক। এই ঘটনার ভিডিও এবং নথিপত্র সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় যোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এই ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং ‘প্রতিষ্ঠিত নিয়মের চরম লঙ্ঘন’ বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন।

ঠিক কী ঘটেছিল বিএসএনএল ডিরেক্টরের প্রয়াগরাজ সফরে

ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন ১৯৮৭ ব্যাচের টেলিযোগাযোগ পরিষেবা কর্মকর্তা বিবেক বানজাল। তিনি বর্তমানে বিএসএনএল-এর ডিরেক্টর (কনজিউমার ফিক্সড অ্যাক্সেস) পদে কর্মরত। গত ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর প্রয়াগরাজ ভ্রমণের কথা ছিল। অভিযোগ উঠেছে, এই দুদিনের সফরে তাঁর ব্যক্তিগত দেখভালের জন্য বিএসএনএল-এর এক বিশাল কর্মীবাহিনীকে কাজে লাগানো হয়। আধিকারিকের স্নান থেকে শুরু করে পুজো দেওয়া— সবকিছুর তদারকির দায়িত্বে ছিলেন খোদ ইঞ্জিনিয়াররা।

আরাম ব্যবস্থাপনায় ৫০ জন ইঞ্জিনিয়ারের ‘ডিউটি’

বিবেক বানজালের ভ্রমণের জন্য যে সরকারি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল, তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। সেখানে দেখা গিয়েছে, জুনিয়র টেকনিক্যাল অফিসার থেকে শুরু করে সাব-ডিভিশনাল এবং ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার পর্যায়ের প্রায় ৫০ জন কর্মীকে শুধুমাত্র ডিরেক্টরের ‘আরাম ব্যবস্থাপনা’ বা কমফোর্ট ম্যানেজমেন্টের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছিল। সঙ্গমে স্নান, হনুমান মন্দির দর্শন, অক্ষয়বট এবং পাতালপুরী মন্দির পরিদর্শনের সময় যাতে ডিরেক্টরের বিন্দুমাত্র অসুবিধা না হয়, তার জন্য প্রতি পদে পাহারায় ছিলেন এই উচ্চশিক্ষিত কর্মীরা।

তালিকায় ছিল অন্তর্বাস থেকে চপ্পলও

বিতর্ক আরও দানা বেঁধেছে যখন জানা গিয়েছে যে, ডিরেক্টরের স্নানের কিট এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রী জোগাড় করার দায়িত্বও ছিল ওই সরকারি কর্মীদের ওপর। তালিকায় চুলের তেল, চিরুনি, টুথপেস্ট, ব্রাশ, শেভিং কিট এমনকি অন্তর্বাস এবং চপ্পল পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল। মোট আটটি স্নানের কিটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল, যার মধ্যে ছয়টি পুরুষদের এবং দুটি মহিলাদের জন্য। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে আলাদাভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ডিরেক্টরের স্নান-পরবর্তী প্রয়োজনীয়তা তদারকি করার জন্য।

ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিএসএনএল কর্তৃপক্ষের সাফাই

এই রাজকীয় আতিথেয়তার খবর ভাইরাল হতেই কড়া অবস্থান নিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সরকারি পদে থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অন্যদিকে, বিতর্ক বাড়তেই নির্ধারিত সময়ের একদিন আগে সফরটি বাতিল করেন বিবেক বানজাল।

বিএসএনএল-এর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই ধরনের ঘটনা সংস্থার পেশাদার মান এবং নৈতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কর্মীদের আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য নতুন করে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। তবে একজন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের ব্যক্তিগত সেবায় সরকারি ইঞ্জিনিয়ারদের এভাবে ব্যবহার করার ঘটনায় প্রশাসনের অন্দরে প্রশাসনিক সংস্কারের দাবি জোরালো হচ্ছে।

বিএসএনএল ডিরেক্টরের এই কাণ্ড নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন মিম এবং সমালোচনার ঝড়। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যেখানে সরকারি টেলিকম সংস্থাটি প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে কর্মকর্তাদের এমন বিলাসিতা এবং জনশক্তির অপচয় কতটা যুক্তিযুক্ত?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *