লেটেস্ট নিউজ

অভিষেক পত্নী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানহানি রুখতে কঠোর কলকাতা হাইকোর্ট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিউজ ডেস্ক

কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় আইনি স্বস্তি পেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ দিল উচ্চ আদালত। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের মানহানিকর বা আসাম্মানজনক মন্তব্য করা যাবে না। এমনকি, অকারণে তাঁর নাম জড়িয়ে সংবাদমাধ্যমে কোনও প্রকার নেতিবাচক প্রচার চালানো থেকেও বিরত থাকতে হবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে।

আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ

মামলার শুনানিতে বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন যে, ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে কারোর চরিত্রহনন করা আইনত দণ্ডনীয় এবং আদালত তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না। বিশেষ করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারোর ব্যক্তিগত জীবনকে জনসমক্ষে কালিমালিপ্ত করার প্রচেষ্টাকে রুখে দিতেই এই অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার গুরুত্ব বিচার করে আগামী ২৪ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।

কেন আদালতের দ্বারস্থ হলেন রুজিরা?

অভিষেক পত্নী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ ছিল, একটি বিশেষ রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়ার সুবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সংবাদমাধ্যমের একটি অংশ অনবরত তাঁর নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিকর প্রচার চালাচ্ছে। তাঁর আইনজীবীরা আদালতে সওয়াল করেন যে, রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও কেবল রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে বারবার তাঁকে নিশানা করা হচ্ছে। এই ধরনের প্রচার তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক শান্তি এবং সামাজিক সম্মানে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

রায়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব

আইনজীবীদের মতে, এই নির্দেশ সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক দলগুলির জন্য একটি বড় বার্তা। বাক-স্বাধীনতার নামে কারোর ব্যক্তিগত সম্মানহানি যে করা যায় না, আদালত তা পুনরায় মনে করিয়ে দিল। রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী আদালতে দাবি করেছিলেন যে, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে তাঁর সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার রয়েছে, যা রাজনৈতিক স্বার্থে বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছিল। হাইকোর্টের এই রক্ষাকবচ পাওয়ার পর আপাতত স্বস্তিতে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *