লেটেস্ট নিউজ

আইন বিভেদের নয়, ধর্মীয় সম্প্রীতির সেতু হওয়া উচিত: কেরালা হাই কোর্ট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কেরালা হাই কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আইন, নিয়ম ও বিধি সমাজে ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টি করার হাতিয়ার হতে পারে না; বরং এগুলোর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সামাজিক ঐক্য ও সৌহার্দ্যকে আরও শক্তিশালী করা। পাথানামথিট্টার আদুর শ্রী পার্থসারথি মন্দিরে দুই খ্রিস্টান পাদ্রির প্রবেশ সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলা খারিজ করতে গিয়ে আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে।

এই মামলা দায়ের করেছিলেন শিক্ষক পেশার সানিল নারায়ণন নাম্বুথিরি। তাঁর অভিযোগ ছিল, ২০২৩ সালে দুই খ্রিস্টান পাদ্রির মন্দিরে প্রবেশ কেরালা হিন্দু পাবলিক উপাসনাস্থল (প্রবেশাধিকার) আইন, ১৯৬৫-এর লঙ্ঘন। পাশাপাশি, ত্রাবাঙ্কোর দেবস্বম বোর্ড ও মন্দির কর্তৃপক্ষকে অ-হিন্দুদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছিল।

বিচারপতি রাজা বিজয়রাঘবন ভি এবং কে ভি জয়কুমারের বেঞ্চ জানায়, ওই দুই পাদ্রিকে শ্রীকৃষ্ণ জয়ন্তী উৎসবে তান্ত্রিকদের পক্ষ থেকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, যা কোনও অধিকার দাবি করে প্রবেশের বিষয় থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। আদালত ‘মাতৃ দেবো ভব, পিতৃ দেবো ভব, আচার্য দেবো ভব, অতিথি দেবো ভব’—তৈত্তিরীয় উপনিষদের এই মন্ত্র উদ্ধৃত করে ভারতীয় অতিথি-সন্মানের ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

হাই কোর্ট আরও উল্লেখ করে, সংশ্লিষ্ট আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায় ও শ্রেণির মধ্যে বৈষম্য দূর করা। অথচ বিধি ৩(এ)-তে অ-হিন্দুদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে, যা আইনের মূল ভাবনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আদালত জানায়, আইন ও বিধির মধ্যে অসঙ্গতি থাকলে মূল আইনই প্রাধান্য পাবে। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে বিধি ৩(এ) পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে তা আইনপ্রণেতার উদ্দেশ্য ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। আদালতের মতে, পরিবর্তনশীল সমাজে আইনের ব্যাখ্যা এমন হওয়া উচিত, যা অন্তর্ভুক্তি, পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থানকে উৎসাহিত করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *