লেটেস্ট নিউজ

আদালতের ধমক আর পালানোর উপায় নেই, অবশেষে সারেন্ডার মন্ত্রীপুত্র বিকাশ গোগাওয়ালের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দেওয়া ঘটনায় অবশেষে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন শিবসেনা (একনাথ শিন্ডে গোষ্ঠী) মন্ত্রী ভরত গোগাওয়ালের ছেলে বিকাশ গোগাওয়াল। বোম্বে হাইকোর্টের চরম হুঁশিয়ারি এবং রাজ্য সরকারের প্রতি কড়া পর্যবেক্ষণের পর কার্যত কোণঠাসা হয়েই এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হলেন তিনি।

আদালতের ভর্ৎসনা ও মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সম্প্রতি রায়গড় জেলার মহাদ নগর পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল বিকাশ গোগাওয়ালের। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তার আগাম জামিনের আবেদন উঠলে বিচারপতি মাধব জামদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মহারাষ্ট্রে কি আইনের শাসন বজায় আছে? মুখ্যমন্ত্রী কি এতটাই অসহায় যে নিজের মন্ত্রীর ছেলেকে গ্রেফতার করাতে পারছেন না?” আদালতের এই কঠোর অবস্থানের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মহাদ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন বিকাশ এবং তার তুতো ভাই মহেশ গোগাওয়াল।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: লড়াই যখন শিন্ডে বনাম অজিত পওয়ার গোষ্ঠী

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর। মহাদ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে শাসক জোটের দুই শরিক দল—একনাথ শিন্ডের শিবসেনা এবং অজিত পওয়ারের এনসিপি সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এর ফলে দু’পক্ষের বিরুদ্ধেই ক্রস-এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। একদিকে ছিলেন মন্ত্রীপুত্র বিকাশ গোগাওয়াল, অন্যদিকে এনসিপি নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক মাণিক জগতাপের ছেলে শ্রেয়াংশ জগতাপ।

রেহাই পেলেন না শ্রেয়াংশও

বিকাশ গোগাওয়ালের আত্মসমর্পণের পাশাপাশি এনসিপি নেতা শ্রেয়াংশ জগতাপের জামিনের আবেদনও খারিজ করে দিয়েছে আদালত। বিচারপতি স্পষ্ট জানান, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শ্রেয়াংশ তার জামিনের আবেদন প্রত্যাহার করে নেন। আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, পুলিশকে দ্রুত তাকেও গ্রেফতার করতে হবে।

কে এই বিকাশ গোগাওয়াল?

রায়গড় জেলার দাপুটে নেতা তথা চারবারের বিধায়ক ভরত গোগাওয়ালের ছেলে বিকাশ ২০২২ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখেন। বর্তমানে তিনি যুব সেনার কোঙ্কণ ডিভিশনের সেক্রেটারি এবং রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। স্থানীয় রাজনীতিতে গোগাওয়াল পরিবারের ব্যাপক প্রভাব থাকলেও, এবারের এই আইনি টানাপোড়েন মন্ত্রী ভরত গোগাওয়াল ও মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *