লেটেস্ট নিউজ

‘আমি বেকার, ভাতা পাওয়া আমার অধিকার’ যুবসাথীর লাইনে বিজেপির মহিলা নেত্রী! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বিরোধিতা করা যেখানে বিজেপির নিত্যদিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি, সেখানে এক অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল পুরুলিয়া। রাজ্য সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের সুবিধা নিতে সরাসরি সরকারি শিবিরে হাজির হলেন খোদ বিজেপি নেত্রী। শুধু হাজির হওয়াই নয়, রীতিমতো ফর্ম ফিলাপ করে নিজের অধিকারের দাবি জানিয়ে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন তিনি।

ঠিক কী ঘটেছে?

পুরুলিয়া জেলার বরাবাজার ব্লকে সম্প্রতি রাজ্য সরকারের ‘যুবসাথী’ বা বেকার ভাতা প্রকল্পের একটি শিবির আয়োজিত হয়েছিল। সেখানে আর পাঁচজন সাধারণ চাকরিপ্রার্থীর মতোই লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম জমা দিতে দেখা যায় মালিকা ভূঁইয়াকে। উল্লেখ্য, মালিকা কেবল একজন সাধারণ আবেদনকারী নন, তিনি বান্দোয়ান মণ্ডল-২-এর বিজেপি সহ-সংযোজিকা। একজন সক্রিয় বিজেপি নেত্রীর এভাবে তৃণমূল সরকারের প্রকল্পের লাইনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

নেত্রীর যুক্তি এবং পাল্টা তোপ

বিজেপি নেত্রী মালিকা ভূঁইয়া পেশায় সংস্কৃতের ছাত্রী। বর্তমানে তিনি এমএ পড়ছেন। নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত সপ্রতিভ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট জানান, “আমার এমএ এখনও শেষ হয়নি। আমি সম্পূর্ণ বেকার। তাই এই ভাতা পাওয়া আমার নাগরিক অধিকার।”

যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয় যে তাঁর দল (বিজেপি) তো সবসময় এই ধরনের ‘খয়রাতি’ প্রকল্পের বিরোধিতা করে, তখন তিনি পাল্টা আক্রমণ শানান রাজ্য সরকারের কর্মসংস্থান নীতির ওপর। মালিকা বলেন, “আমার দল সঠিকভাবেই এই সবের বিরোধিতা করে। সরকার যদি আমাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করত, তবে আজ আমাকে এই ভাতার লাইনে এসে দাঁড়াতে হতো না। রাজ্যে কাজ নেই বলেই আজ বেকার ভাতার জন্য ফর্ম তুলতে হয়েছে।”

রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন

এই ঘটনা সামনে আসতেই তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। তাঁদের দাবি, একদিকে বিজেপি নেতারা বাইরে এই প্রকল্পের নিন্দা করেন, আর অন্যদিকে তলে তলে সরকারের প্রকল্পের সুবিধাও ভোগ করেন। অন্যদিকে, স্থানীয় বিজেপি শিবিরের একাংশ এই ঘটনায় কিছুটা অস্বস্তিতে পড়লেও মালিকার ব্যক্তিগত বেকারত্বের বিষয়টিকে অস্বীকার করতে পারছে না।

সব মিলিয়ে, এক বিজেপি নেত্রীর এই ‘অধিকারের লড়াই’ এখন বাংলার রাজনীতির নতুন চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *