লেটেস্ট নিউজ

আম্পায়ারের একটি ভুল সিদ্ধান্তই ডেকে এনেছিল মৃত্যু, ২২ বছর পর ঐতিহাসিক সাজা শোনাল চুঁচুড়া আদালত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ক্রিকেট মাঠের উত্তেজনা যে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে, তার এক মর্মান্তিক সাক্ষী হয়ে রইল হুগলির বলাগড়। মাত্র একটি ‘ভুল সিদ্ধান্ত’কে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিবাদ শেষ পর্যন্ত রূপ নিয়েছিল নৃশংস হত্যাকাণ্ডে। দীর্ঘ ২২ বছরের আইনি লড়াই শেষে অবশেষে সেই ঘটনায় দোষীদের কঠোর কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল চুঁচুড়া জেলা আদালত।

২২ বছর আগের সেই অভিশপ্ত দিন

ঘটনার সূত্রপাত ২০০৪ সালের ২৬ মে। হুগলি জেলার বলাগড় থানার অন্তর্গত নিত্যানন্দপুরে একটি ক্রিকেট ম্যাচ চলছিল। খেলার টানটান উত্তেজনার মধ্যে আম্পায়ারের দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় যুবক দিবাকর মণ্ডল। ম্যাচের একটি পর্যায়ে দিবাকর একটি সিদ্ধান্ত দেন, যা মেনে নিতে পারেনি প্রতিপক্ষ দল। মাঠের মধ্যেই শুরু হয় বচসা ও হাতাহাতি। পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলেও আক্রোশ মেটেনি অভিযুক্তদের।

আঘাত ও মৃত্যু

২৯ মে ফের দিবাকরকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। লোহার রড, বাঁশ এবং শাবল দিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় দিবাকরকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে কলকাতার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে কয়েক দিন পরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই তরুণ আম্পায়ার।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের রায়

দিবাকরের কাকা রমানন্দ মণ্ডল বলাগড় থানায় নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন মোট ১৯ জন। মামলার জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে বৃহস্পতিবার চুঁচুড়া আদালতের সেকেন্ড ফাস্ট কোর্টের বিচারক দেবাশিষ সাঁতরা সাতজনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। শুক্রবার চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করা হয়।

কার কী সাজা হলো?

আদালতের রায় অনুযায়ী, মূল অভিযুক্ত ছয়জনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও দুই মাস অতিরিক্ত জেল খাটতে হবে। অন্যদিকে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য এক অভিযুক্তকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

সরকারি আইনজীবী সুব্রত ভট্টাচার্য এবং মুখ্য সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গাঙ্গুলী জানান, তদন্ত প্রক্রিয়া এবং সাক্ষী গ্রহণের দীর্ঘ ধাপ পেরিয়ে এই রায় এসেছে। তবে বিচার দেরিতে হলেও সত্যের জয় হয়েছে বলে মনে করছে দিবাকরের পরিবার। খেলার মাঠের স্পোর্টিং স্পিরিট ছাপিয়ে প্রতিহিংসা কীভাবে একটি তরতাজা প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, এই ঘটনা তার এক কলঙ্কিত অধ্যায় হয়েই থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *