আরবে ঘনীভূত যুদ্ধের মেঘ! নেতানিয়াহুকে ফোন মোদীর – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ইরান এবং ইজরায়েলের মধ্যকার সংঘাত এখন চরমে। মিসাইল আর ড্রোনের গর্জনে কাঁপছে গোটা আরব দুনিয়া। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে সাধারণ মানুষের জীবন এখন গভীর সংকটের মুখে। ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের পতনের পর পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলা শুরু করেছে তেহরান। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বিশ্বশান্তি বজায় রাখতে বড়সড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
ফোনে মোদী-নেতানিয়াহু কথোপকথন
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে দীর্ঘ আলোচনা করেন নরেন্দ্র মোদী। যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের উদ্বেগ অত্যন্ত গভীর। সাধারণ মানুষের প্রাণহানি রুখতে এবং স্থিতাবস্থা ফেরাতে ভারত শুরু থেকেই শান্তির পক্ষে সওয়াল করছে।
আমিরশাহীর পাশে ভারত
শুধু ইজরায়েল নয়, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নয়হানের সঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে সাম্প্রতিক হামলায় মৃতদের প্রতি শোকপ্রকাশের পাশাপাশি ভারত যে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে আমিরশাহীর পাশে থাকবে, সেই প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। বিশেষ করে আমিরশাহীতে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান মোদী।
ট্রাম্পের অনড় অবস্থান ও ভারতের জরুরি বৈঠক
যেখানে ভারত শান্তির কথা বলছে, সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বয়ানে পাওয়া গেল ভিন্ন সুর। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে এই সংঘাত এখনই থামছে না, বরং আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে। আমেরিকার এই কঠোর অবস্থানের মাঝেই রবিবার রাতে তড়িঘড়ি মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডাকেন মোদী। ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা এই ত্রিমুখী লড়াইয়ের আবহে ভারতের বিদেশনীতি এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘ আলোচনা হয় এই বৈঠকে। ২০০-র বেশি মানুষের প্রাণহানি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা ভারতের অর্থনীতি ও কূটনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই সবথেকে বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সাউথ ব্লকের কাছে।

