আহমেদাবাদে ভারতের ম্যাচেও গ্যালারি ফাঁকা, ইডেনের ক্রিকেট সংস্কৃতির জয়গান
দেশের মাঠে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হয়েছিল ভারত। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির অনুপস্থিতি সমর্থকদের মনে বড় অভাব তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিলেও গ্যালারিতে নীল জার্সির ভিড়ে এই দুই মহাতারকার জনপ্রিয়তাই ছিল তুঙ্গে। তবে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন বর্তমান দলের লড়াই দেখতে আসা দর্শকদের উন্মাদনা থাকলেও মাঠের বিশাল অংশই জনশূন্য থেকে গেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক লক্ষ পনেরো হাজার দর্শকাসনের এই স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ঊনআশি হাজার দর্শক। অর্থাৎ, ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও আহমেদাবাদে প্রায় পঁয়ত্রিশ হাজার আসন ফাঁকা পড়ে ছিল, যা ক্রিকেট মহলে বিস্ময় জাগিয়েছে। প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে বড় ম্যাচগুলো বারবার আহমেদাবাদে আয়োজন করা হলেও, দর্শক উপস্থিতির বিচারে তা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। বিপরীতে, কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স এমনকি সাধারণ ম্যাচেও হাজার হাজার দর্শক সমাগম ঘটিয়ে নিজেদের ক্রিকেট কৌলিন্য বজায় রেখেছে।
ক্রিকেট সংস্কৃতির বিচারে মুম্বই, কলকাতা বা চেন্নাইয়ের তুলনায় আহমেদাবাদ এখনও অনেক পিছিয়ে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২৩ বিশ্বকাপের ফাইনাল বা বর্তমান টুর্নামেন্টের সুপার এইট, কোনো ক্ষেত্রেই এই মাঠ পূর্ণ দর্শক টানতে পারেনি। প্রতিপক্ষ দলের ভালো পারফরম্যান্সকে সম্মান জানানোর ক্ষেত্রেও আহমেদাবাদের দর্শক আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ। দিনশেষে ইডেন গার্ডেন্স যা অনায়াসে করে দেখায়, পরিকাঠামোয় উন্নত হয়েও আহমেদাবাদ সেই আবেগ ও সংস্কৃতির নিরিখে পিছিয়েই থাকছে।

