ইজ়রায়েল-ইরান সংঘাত: তেহরানে পরমাণু হামলার আশঙ্কায় কাঁপছে পশ্চিম এশিয়া – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সাঁড়াশি আক্রমণে ইজ়রায়েলের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত ব্যর্থ হওয়ায় পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের উত্তেজনা তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় তেল আভিভ তেহরানের ওপর পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। ইজ়রায়েলের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে ‘স্যামসন বিকল্প’ বা ‘স্যামসন অপশন’ হিসেবে অভিহিত করা হয়, যা মূলত চূড়ান্ত বিপর্যয়ের মুখে শত্রুকে ধ্বংস করে নিজেরাও আত্মাহুতির এক রণকৌশল।
ইজ়রায়েলের আণবিক ভাণ্ডার নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র দাবি, ১৯৭৯ সালেই ভারত মহাসাগরে পরমাণু পরীক্ষা চালিয়েছিল ইহুদি রাষ্ট্রটি। বর্তমানে তাদের হাতে প্রায় ৯০টি সক্রিয় ওয়ারহেড এবং ২০০টির মতো অস্ত্র তৈরির কাঁচামাল রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ভারতের মতো ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ বা প্রথমে ব্যবহার না করার নীতিতে বিশ্বাসী নয় ইজ়রায়েল; বরং হিব্রু বাইবেলের চরিত্র স্যামসনের মতোই চরম সংকটে শত্রুকে নিয়ে বিনাশ হওয়ার পথ খোলা রেখেছে তারা।
১৯৬৭ সালের ‘ছয় দিনের যুদ্ধে’র সময়ও ইজ়রায়েল এমন এক ‘প্ল্যান বি’ তৈরি করেছিল, যেখানে পরাজয় নিশ্চিত বুঝলে সিনাই উপদ্বীপে পরমাণু বিস্ফোরণের পরিকল্পনা ছিল। বর্তমান যুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দফতরে ইরানের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যদি তেহরানের আক্রমণে ইহুদি রাষ্ট্রের মানচিত্র মুছে যাওয়ার উপক্রম হয়, তবে তেল আভিভ শেষ অস্ত্র হিসেবে পরমাণু বোমার বোতাম টিপতে দ্বিধা করবে না বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

