ইঞ্জিনিয়ার নাকি অ্যাথলিট! জোম্যাটো কর্তার নতুন সংস্থায় চাকরি পেতে শরীরে মেদ থাকতে হবে নির্দিষ্ট মাপে – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
অনলাইন ফুড ডেলিভারি জায়ান্ট জোম্যাটো-র প্রতিষ্ঠাতা দীপিন্দর গোয়েল বরাবরই তাঁর ব্যতিক্রমী ব্যবসায়িক চিন্তাভাবনা এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জন্য চর্চায় থাকেন। তবে এবার তিনি যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন, তা দেখে রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ নেটিজেনদের। নিজের নতুন হেলথ-টেক স্টার্টআপ ‘টেম্পল’-এর জন্য কর্মী খুঁজছেন তিনি, কিন্তু সেখানে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি জুড়ে দেওয়া হয়েছে এক অদ্ভুত শারীরিক শর্ত।
কী সেই অদ্ভুত শর্ত?
দীপিন্দর গোয়েল তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন যে, ‘টেম্পল’-এর জন্য এমন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার এবং বিজ্ঞানীদের প্রয়োজন যারা আদতে একজন অ্যাথলিট। নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি ফ্যাট পার্সেন্টেজ বা শরীরের মেদের পরিমাণের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। দীপিন্দরের শর্ত অনুযায়ী, আবেদনকারী পুরুষদের শরীরে মেদের পরিমাণ হতে হবে ১৬ শতাংশের কম এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ২৬ শতাংশের কম।
জোম্যাটো এবং ব্লিনকিট-এর মূল সংস্থা ‘ইটারনাল’-এর সিইও পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর দীপিন্দর এখন সম্পূর্ণ মন দিয়েছেন এই নতুন ভেঞ্চারে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যারা নিজেদের শরীরকে চরম সীমায় নিয়ে যেতে পারেন, তাদের জন্যই এই পণ্য তৈরি করা হচ্ছে। আর সেই কারণেই যারা এটি তৈরি করবেন, তাদেরও একইভাবে ফিট হতে হবে।
প্রশিক্ষণের সুযোগ এবং কঠোর নিয়ম
দীপিন্দর জানিয়েছেন, যদি কোনো প্রতিভাবান আবেদনকারী বর্তমানে এই নির্ধারিত মেদের মাত্রায় না থাকেন, তবে তিনি তিন মাসের সময় পাবেন নিজেকে ফিট করার জন্য। তবে সেই তিন মাস সংশ্লিষ্ট কর্মীকে ‘প্রবেশন’ পিরিয়ডে থাকতে হবে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারলে চাকরিতে স্থায়ী হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
‘টেম্পল’ মূলত উচ্চমানের অ্যাথলিটদের জন্য এমন একটি ‘ওয়্যারেবল ডিভাইস’ বা পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি তৈরি করছে, যা বর্তমান বিশ্বের যেকোনো ডিভাইসের চেয়ে নিখুঁত তথ্য দেবে। এই প্রজেক্টের জন্য অ্যানালগ সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে কম্পিউটেশনাল নিউরোসায়েন্টিস্ট পর্যন্ত নিয়োগ করা হচ্ছে।
নেটপাড়ায় ট্রোলের বন্যা
দীপিন্দর গোয়েলের এই পোস্ট ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই ফিটনেসের এই কড়া শর্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, সমলোচকদের সংখ্যাও কম নয়। এক ব্যবহারকারী উপহাস করে লিখেছেন, “মজার বিষয় হলো, কোনো পুরুষকে ১৬ শতাংশের নিচে বডি ফ্যাট রাখতে হলে তাকে প্রথমেই জোম্যাটো অ্যাপ ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে।”
অন্য এক নেটিজেন প্রশ্ন তুলেছেন, “সেরা ফিটনেস প্রোডাক্ট তৈরি করার জন্য ইঞ্জিনিয়ারকে কেন অ্যাথলিট হতে হবে? বিশ্বের অনেক সেরা স্পোর্টস টেকনোলজি এমন মানুষেরা তৈরি করেছেন যারা নিজেরা কোনোদিন মাঠে নামেননি।”
বিতর্ক যাই হোক না কেন, দীপিন্দর গোয়েল প্রমাণ করে দিলেন যে তিনি সাধারণ ছকের বাইরে হাঁটতেই পছন্দ করেন। উচ্চ প্রযুক্তির সাথে কঠোর শারীরিক ডিসিপ্লিনকে মিলিয়ে দিয়ে তিনি কর্পোরেট দুনিয়ায় এক নতুন এবং বিতর্কিত নজির স্থাপন করলেন।

