ইন্দোনেশিয়ায় হিন্দু ঐতিহ্যের জয়গান, মুসলিম প্রধান দেশে আজও জীবন্ত রামায়ণ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় আজও হিন্দু সভ্যতার গভীর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। ঐতিহাসিকভাবে শ্রীবিজয় ও মাজাপাহিত রাজবংশের শাসনামলে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের বিস্তার ঘটেছিল। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ইসলাম ধর্মের প্রচার শুরু হলেও দেশটির মানুষ তাদের প্রাচীন সাংস্কৃতিক শিকড় ও ঐতিহ্যকে সযত্নে লালন করে আসছে। জাভা দ্বীপের নবম শতাব্দীতে নির্মিত ইউনেস্কো স্বীকৃত প্রাম্বানান মন্দির এবং বালি দ্বীপের বেসাকিহ মন্দির এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
দেশটির মুদ্রা ‘রুপিয়াহ’ থেকে শুরু করে জাতীয় বিমান সংস্থা ‘গারুডা’—সবক্ষেত্রেই হিন্দু সংস্কৃতির ছাপ স্পষ্ট। বিশেষ করে ২০,০০০ রুপিয়াহ-র নোটে হিন্দু দেবতা গণেশের ছবি অন্তর্ভুক্তি দেশটির বহুত্ববাদী ‘পঞ্চশীলা’ নীতির প্রতিফলন। ইন্দোনেশীয়দের কাছে গণেশ কেবল ধর্মীয় সত্তা নন, বরং তিনি শিক্ষা ও প্রজ্ঞার প্রতীক। এছাড়া দেশটির সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার লোগোতেও শ্রীকৃষ্ণের রথের চিত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
ইন্দোনেশীয় জীবনযাত্রায় রামায়ণ ও মহাভারত কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা জাতীয় সাহিত্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নিয়মিতভাবে ‘ওয়ায়াং কুলিত’ বা ছায়ানাটকের মাধ্যমে রামায়ণের গল্প পরিবেশিত হয়। মূলত ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিজেদের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে সম্মান জানানোই ইন্দোনেশিয়ার বিশেষত্ব। প্রাচীন ইতিহাস ও আধুনিক জীবনধারার এই মেলবন্ধন দেশটিকে বিশ্ব দরবারে এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

