ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের বড় প্রভাব, সস্তা হচ্ছে বাসমতী চাল আর দামী হবে পেট্রোল – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের মেঘ এবার সরাসরি প্রভাব ফেলতে চলেছে ভারতীয়দের পকেটে। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও, ভারতের সাধারণ মানুষের জন্য রয়েছে একটি স্বস্তির খবর। যুদ্ধের কারণে ইরানে বাসমতী চাল রপ্তানি থমকে যাওয়ায় দেশের বাজারে হু হু করে কমতে পারে এই প্রিমিয়াম চালের দাম।
বাসমতী চালের বাজারে বড় ধস
ভারত থেকে বাসমতী চালের অন্যতম বড় আমদানিকারক দেশ হলো ইরান। সম্প্রতি যুদ্ধের আবহে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য কার্যত থমকে গিয়েছে। এর আগে ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্ডার আসার কারণে ভারতীয় বাজারে বাসমতী চালের দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জাহাজ চলাচলে ঝুঁকির কারণে সেই রপ্তানি মাঝপথে আটকে গিয়েছে। ফলে রপ্তানির জন্য মজুত থাকা বিপুল পরিমাণ চাল এখন দেশের বাজারে চলে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বাসমতী চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রপ্তানিতে বড় ধাক্কা
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারত থেকে মোট বাসমতী চাল রপ্তানির প্রায় ২৫ শতাংশ যায় ইরানে এবং ২০ শতাংশ যায় ইরাকে। গত বছর ভারত ইরানে প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বাসমতী চাল পাঠিয়েছিল। যুদ্ধের কারণে এই বিশাল অঙ্কের বাণিজ্য এখন অনিশ্চয়তার মুখে। শুধু চাল নয়, ভারত থেকে ইরানে চা রপ্তানিও বড়সড় বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। গত অর্থবর্ষে প্রায় ৭ বিলিয়ন টাকার চা ইরানে পাঠিয়েছিল ভারতীয় সংস্থাগুলো।
মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ
চাল ও চায়ের দাম কমার সম্ভাবনা থাকলেও, সাধারণ মানুষের জন্য দুঃসংবাদ দিচ্ছে জ্বালানি তেলের বাজার। ইরান বিশ্বের অন্যতম প্রধান অপরিশোধিত তেল উৎপাদনকারী দেশ। যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের পেট্রোল ও ডিজেলের দামে। ফলে একদিকে যেমন পাতে বাসমতী চাল সস্তা হতে পারে, অন্যদিকে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রবল হচ্ছে।

