ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের মন্তব্যে দেশজুড়ে সমালোচনা, মার্কিনিদের দাবি যুদ্ধপরাধ

ইরান ও আমেরিকার চলমান সংঘাতের আবহে খোদ দেশের মাটিতেই নজিরবিহীন সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান নিয়ে ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক একাধিক মন্তব্যকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক লাখ মানুষ এবং মানবাধিকার সংগঠন। সে দেশে প্রতিদিন আয়োজিত যুদ্ধবিরোধী মিছিল ও সমাবেশ থেকে প্রেসিডেন্টের আগ্রাসী মনোভাবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন নাগরিকরা। সম্প্রতি হার্ভার্ড, ইয়েল ও স্ট্যানফোর্ডের মতো নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং বিশিষ্ট আইনজীবীদের স্বাক্ষরিত একটি খোলা চিঠিতে এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।
ওই খোলা চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, কোনো অকাট্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আমেরিকা ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। যুদ্ধের শুরুতে ইরানের মিনাপ শহরের একটি প্রাথমিক স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৭৫ জন প্রাণ হারায়, যাদের অধিকাংশই শিশু। এই ঘটনা এবং বেসামরিক স্থাপনায় ক্রমাগত হামলাকে আন্তর্জাতিক জেনিভা কনভেনশন ও রাষ্ট্রসংঘের সনদের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালীন এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ ১৫ হাজার বেসরকারি ও জনহিতকর প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী, যার মধ্যে হাসপাতালও রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিভিন্ন সময়ের বিতর্কিত মন্তব্য এই ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে। ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়া’ কিংবা দেশটির পানীয় জল শোধনাগার ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছেন, তাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম অবমাননা হিসেবে গণ্য করছেন মার্কিন বুদ্ধিজীবীরা। মার্কিন বিদেশমন্ত্রী পিট হেগসেথের মন্তব্যও এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য এবং হাসপাতালের মতো সুরক্ষিত স্থানে হামলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক মর্যাদাকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এদিকে ইরান এই যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকার সমালোচনা ও উপহাস করতে ছাড়ছে না। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী যখন একদিকে শাসনব্যবস্থা বদলের হুমকি দিচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর তারা নিজেদের পাইলটদের সন্ধানে অনুনয় করছে। ট্রাম্প এখন পর্যন্ত পাঁচবার যুদ্ধ থামানোর মৌখিক প্রস্তাব দিলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। নিজ দেশে ট্রাম্পের প্রতি এই জনরোষ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ হোয়াইট হাউসের জন্য এক বড়সড় কূটনৈতিক ও নৈতিক চাপ তৈরি করল।
