এআই-এর দাপটে কি বিপন্ন হলিউড? টম ক্রুজ ও ব্র্যাড পিটের ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্ক
চীনা প্রযুক্তি সংস্থা বাইটড্যান্সের নতুন এআই টুল ‘সিড্যান্স ২.০’ ব্যবহার করে তৈরি হলিউড মহাতারকা টম ক্রুজ ও ব্র্যাড পিটের ১৫ সেকেন্ডের একটি কাল্পনিক অ্যাকশন ভিডিও সমাজমাধ্যমে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। আইরিশ পরিচালক রুইরি রবিনসন নির্মিত এই ভিডিওটি এতটাই নিখুঁত যে, সাধারণ চোখে একে কৃত্রিম বলে চেনা আসাম্ভব। এই ঘটনাটি আমেরিকার চলচ্চিত্র শিল্পে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, কারণ অনেক বিশেষজ্ঞই একে হলিউডকে ধ্বংস করার একটি চীনা কৌশল হিসেবে দেখছেন।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে সরব হয়েছে মোশন পিকচার অ্যাসোসিয়েশন এবং শিল্পী সংগঠনগুলো। তাদের দাবি, তারকাদের অনুমতি ছাড়া এভাবে ডিজিটাল প্রতিলিপি তৈরি করা অনৈতিক এবং আইনত দণ্ডনীয়। ‘ডেডপুল’-এর চিত্রনাট্যকার রেট রিস থেকে শুরু করে বিনোদন জগতের অনেকেই এই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, এআই যদি এভাবে নিখুঁত ভিডিও তৈরি করতে শুরু করে, তবে অভিনেতা ও পরিচালকদের প্রাসঙ্গিকতা হারানোর প্রবল ঝুঁকি রয়েছে।
বিতর্কের মুখে বাইটড্যান্স জানিয়েছে যে তারা মেধাস্বত্ব রক্ষা এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে কাজ করছে। বর্তমানে এই এআই টুলটি কেবল চীনে পরীক্ষামূলক স্তরে থাকলেও, এর সক্ষমতা ওপেনএআই বা গুগলের মতো প্রতিযোগী সংস্থাগুলোকে ছাপিয়ে গিয়েছে বলে দাবি করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। এই প্রযুক্তি যেমন সৃজনশীলতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে, তেমনি চলচ্চিত্র শিল্পের কয়েক দশকের পুরনো কাঠামোকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

