লেটেস্ট নিউজ

একটি অবলা প্রাণীর জন্য নিজের সন্তানকে মরণকূপে পাঠালেন গ্রামবাসীরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিহারে তপ্ত দুপুরের এক ভয়াবহ দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত নেট দুনিয়া। একটি অবলা ছাগলছানাকে বাঁচাতে নিজের কোলের সন্তানকে দড়ি দিয়ে বেঁধে গভীর কুয়োর অন্ধকারে নামিয়ে দিলেন গ্রামবাসীরা। পূর্ব চম্পারণ জেলার এই রুদ্ধশ্বাস উদ্ধারকাজের ভিডিও ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছে, একটি পশুর জীবনের দাম কি একটি শিশুর জীবনের চেয়েও বেশি?

মৃত্যুর মুখে একরত্তি শিশু

পূর্ব চম্পারণের একটি গ্রামে আচমকাই একটি ছাগলছানা পরিত্যক্ত ও গভীর একটি শুকনো কুয়োর ভেতরে পড়ে যায়। কুয়োর মুখ অত্যন্ত সরু হওয়ায় কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পক্ষে ভেতরে ঢোকা সম্ভব ছিল না। এই অবস্থায় উপস্থিত গ্রামবাসীরা চরম হঠকারী এক সিদ্ধান্ত নেন। তারা একটি ছোট শিশুকে কাপড়ে ও দড়িতে বেঁধে উল্টো করে সেই অন্ধকার কুয়োর গভীরে নামিয়ে দেন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শিশুটিকে পা ধরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সে অতল গহ্বরে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে।

রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান

কুয়োর উপরে থাকা একদল মানুষ দড়ি ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আর নিচে ঝুলন্ত অবস্থায় সেই শিশুটি সাহসের সঙ্গে ছাগলছানাটিকে জাপটে ধরে। শেষ পর্যন্ত শিশুটি এবং ছাগলছানা— দুজনেই অক্ষত অবস্থায় উপরে উঠে আসে। ভাগ্যের জোরে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও, যে কোনো মুহূর্তে দড়ি ছিঁড়ে বা দমবন্ধ হয়ে শিশুটির বড় কোনো বিপদ হতে পারত। গ্রামবাসীদের এই কাজকে অনেকে ‘সাহসিকতা’ বললেও, অধিকাংশ মানুষ একে ‘পাগলামি’ ও ‘অমানবিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

সোশ্যল মিডিয়ায় ক্ষোভের আগুন

টুইটার (বর্তমানে X) সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নেটিজেনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। কেউ লিখেছেন, “এদের কি কাণ্ডজ্ঞান নেই? সামান্য একটা ছাগলের জন্য বাচ্চার জীবন বাজি রাখা হলো!” আবার সমাজকর্মীদের মতে, গ্রামীণ এলাকায় জরুরি পরিষেবা বা দমকল পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় মানুষ নিজেরাই আইন হাতে তুলে নেয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। একটি অবলা প্রাণীর প্রতি মায়া থাকা ভালো, কিন্তু তার জন্য একটি শিশুকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *