এনসিইআরটির পাঠ্যবইয়ে বিচারব্যবস্থার অন্ধকার দিক নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: দেশের বিচারব্যবস্থার আমূল সংস্কার যখন সময়ের দাবি, ঠিক তখনই এনসিইআরটির (NCERT) অষ্টম শ্রেণির সংশোধিত সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যবইয়ে উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর অধ্যায়। ‘দ্য রোল অব দ্য জুডিশিয়ারি ইন আওর সোসাইটি’ শীর্ষক ওই অংশে দেশের বিচারবিভাগের অভ্যন্তরীণ সংকট ও সীমাবদ্ধতাকে নজিরবিহীনভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেবল মামলার পাহাড় নয়, বরং খোদ বিচারব্যবস্থার অন্দরে জেঁকে বসা দুর্নীতিই এখন ন্যায়বিচারের পথে প্রধান অন্তরায়।
মামলার পাহাড় আর বিচারক শূন্যতা
পাঠ্যবইয়ের পরিসংখ্যানে দেশের আইনি ব্যবস্থার এক করুণ ছবি ফুটে উঠেছে। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, Supreme \titleonly কোর্টে প্রায় ৮১ হাজার মামলা বিচারাধীন। উচ্চ আদালত বা হাইকোর্টগুলিতে এই সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬২ লক্ষ ৪০ হাজারে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি জেলা ও নিম্ন আদালতগুলির, যেখানে প্রায় ৪ কোটি ৭০ লক্ষ মামলা বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে। বইটিতে সাফ জানানো হয়েছে, পর্যাপ্ত বিচারকের অভাব এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত বিচার পাওয়া এখন কার্যত দিবাস্বপ্ন।
দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলন নিয়ে করা সমালোচনা
পাঠ্যবইটিতে ‘বিচার বিভাগে দুর্নীতি’ শিরোনামে একটি বিশেষ অনুচ্ছেদ রাখা হয়েছে, যা শিক্ষা মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিচারকদের কেবল এজলাসের ভেতরেই নয়, বরং ব্যক্তিগত জীবনেও কঠোর আচরণবিধি মেনে চলা উচিত। বিচারপ্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ সাধারণ মানুষের বিচারব্যবস্থার ওপর থেকে আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে সমাজের প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া মানুষেরা এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ তাদের জন্য ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে আসছে।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ও আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ
এই গুরুতর সমস্যার গুরুত্ব বোঝাতে বইটিতে Supreme \titleonly কোর্টের বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের প্রাসঙ্গিক মন্তব্যও উদ্ধৃত করা হয়েছে। শিক্ষাবিদদের মতে, পাঠ্যবইয়ে বিচারব্যবস্থার এই ত্রুটিগুলি তুলে ধরার মূল উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশের শাসনতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতন করা। বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা না ফিরলে এবং শূন্যপদ পূরণ না হলে কোটি কোটি মানুষের আইনি লড়াই যে দীর্ঘস্থায়ী বিচারহীনতায় পর্যবসিত হবে, এনসিইআরটির এই নতুন সংস্করণ সেই সতর্কবার্তাই দিচ্ছে।

