কার পাল্লা ভারী! পাকিস্তান-আফগানিস্তান রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিয়ে মুখ খুললেন ট্রাম্প – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলা তীব্র সামরিক উত্তেজনার মাঝে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিনের মিত্র পাকিস্তান না কি তালিবান শাসিত আফগানিস্তান— ওয়াশিংটন কার পাশে দাঁড়াবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলা জল্পনার অবসান ঘটালেন তিনি। ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, দরকারে তিনি এই সংঘাতে মধ্যস্থতা করতে পারেন, তবে ইসলামাবাদের সঙ্গে তাঁর ‘ব্যক্তিগত রসায়ন’ এবং সুসম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
পাকিস্তানের পাশেই আমেরিকা
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা পাকিস্তানের পাশেই রয়েছে। মার্কিন রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকার জানিয়েছেন, তালিবানের হামলার মুখে নিজেদের রক্ষা করার পূর্ণ অধিকার পাকিস্তানের রয়েছে। সম্প্রতি আফগান হামলায় নিহত পাকিস্তানি নাগরিকদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, আমেরিকা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, যে তালিবানদের সঙ্গে লড়াই করে আমেরিকাকে আফগানিস্তান ছাড়তে হয়েছিল, তাদের সমর্থন করার কোনো প্রশ্নই নেই ওয়াশিংটনের কাছে।
ট্রাম্পের গলায় পাকিস্তানের প্রশংসা
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমি এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারি। পাকিস্তানের নেতৃত্বের সঙ্গে আমার অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক। সেখানে একজন চমৎকার প্রধানমন্ত্রী এবং দক্ষ জেনারেল রয়েছেন। আমি তাঁদের যথেষ্ট সম্মান করি। পাকিস্তান বর্তমানে খুব ভালো কাজ করছে।” ট্রাম্পের এই মন্তব্যে পরিষ্কার যে, আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে আমেরিকার প্রচ্ছন্ন সমর্থন ইসলামাবাদের দিকেই ঝুঁকে আছে।
যুদ্ধের দামামা দুই সীমান্তে
এদিকে গত কয়েক দিনে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, আফগান ড্রোন হামলা রুখে দিয়েছে তাদের ডিফেন্স সিস্টেম। অন্যদিকে, আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, তাদের বায়ুসেনা পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেনা ছাউনি ও সদর দফতরে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে অ্যাবটাবাদ এবং নওশেরার মতো এলাকায় উত্তাপ এখন তুঙ্গে।
এই চরম উত্তেজনার মাঝেই পাকিস্তান সরকার দেশজুড়ে সমস্ত ধরনের ড্রোন ওড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। দুই দেশের এই ‘খোলাখুলি যুদ্ধ’ দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এখন দেখার, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সরাসরি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত যুদ্ধ থামাতে পারে না কি সমীকরণ আরও জটিল করে তোলে।

