কেরলে বিজেপি ও বামফ্রন্টের গোপন আঁতাত নিয়ে বিস্ফোরক রাহুল গান্ধী

ভোটের মুখে কেরলে বাম গণতান্ত্রিক জোট বা এলডিএফ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। আলাপ্পুঝার এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বামফ্রন্টের মধ্যে ‘বামপন্থা’র আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আদর্শগত বিচ্যুতি ঘটিয়ে এলডিএফ এখন বিজেপি এবং আরএসএস-এর সঙ্গে গোপন আঁতাত গড়ে তুলেছে বলে সরাসরি অভিযোগ করেন তিনি। রাহুল জানান, এলডিএফ-এর অভ্যন্তরে এমন কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটেছে যা দীর্ঘদিনের বামপন্থী কর্মীদেরও বিচলিত করছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের মধ্যে যোগসাজশের ইঙ্গিত দিয়ে রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তোলেন, কেন মোদি তাঁর প্রতিটি জনসভায় কংগ্রেসকে আক্রমণ করলেও কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নীরব থাকেন। তিনি বলেন, “বিজেপি ও আরএসএস-এর বিরুদ্ধে লড়াই করার কারণে আমার বিরুদ্ধে ৩৮টি মামলা দেওয়া হয়েছে, সাংসদ পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং ৫৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অথচ কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো কেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না?” রাহুলের দাবি, মোদি জানেন যে বামফ্রন্ট কখনোই বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না, তাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ইউডিএফ।
কেরলের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাহুল গান্ধী আরও অভিযোগ করেন যে, একটি অদৃশ্য সাম্প্রদায়িক শক্তি আড়াল থেকে এলডিএফ-কে নিয়ন্ত্রণ করছে। এই শক্তি ভারতের সংবিধানকে স্বীকার করে না এবং মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে চায়। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ ১০ বছর ক্ষমতায় থাকার ফলে নরেন্দ্র মোদি এবং পিনারাই বিজয়ন দুজনেই অত্যন্ত অহংকারী হয়ে উঠেছেন, যার ফলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
আগামী ৯ এপ্রিল কেরলে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক আগে রাহুলের এই ‘রাম-বাম’ আঁতাতের অভিযোগ রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। তাঁর মতে, বামফ্রন্ট বর্তমানে তাঁদের মৌলিক আদর্শ হারিয়ে ফেলেছে এবং এই নির্বাচনের পর তাদের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়বে। পেশাদার ও নিরপেক্ষ ভঙ্গিতে এই রাজনৈতিক সংঘাতকে কেন্দ্র করে কেরালা জুড়ে এখন তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।
