লেটেস্ট নিউজ

কোথায় লুকিয়েছেন খামেনেই? ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে ইজরায়েল ও আমেরিকার বিধ্বংসী হামলা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দাবানল এবার সরাসরি আঘাত হানল ইরানের হৃদপিণ্ডে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে কার্যত কেঁপে উঠল তেহরান। তবে এবারের হামলা কেবল সামরিক ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং টার্গেট করা হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বকে। অভিযানের পর থেকেই সবথেকে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে— ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই এখন কোথায়? তিনি কি নিরাপদ, নাকি হামলার কবলে পড়েছেন?

খামেনেইয়ের দফতরে মিসাইল হামলা ও রহস্যজনক অন্তর্ধান

তেহরান থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, প্রথম দফার হামলাতেই খামেনেইয়ের প্রধান কার্যালয় বা দফতর লক্ষ্য করে একাধিক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করার ক্ষমতা রাখে যে ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’, সেই গুরুত্বপূর্ণ ভবনটিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করছে, খামেনেইয়ের বাসভবন লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের সরকারি পক্ষ থেকে খামেনেইয়ের বর্তমান অবস্থান নিয়ে রহস্য বজায় রাখা হলেও, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক বিশেষ সূত্রের বরাতে জানিয়েছে যে, হামলার ঠিক আগেই তাঁকে এক অত্যন্ত গোপন ও সুরক্ষিত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি সুস্থ আছেন কি না, সেই বিষয়ে এখনও তেহরান কোনো ভিডিও বার্তা বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করেনি।

‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানের নাম দিয়েছেন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। একটি বিশেষ ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প সরাসরি ইরানের সাধারণ মানুষকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “ইরানের গর্বিত জনগণ, আপনাদের স্বাধীনতার সময় এসে গেছে। আমরা আমাদের কাজ শেষ করলে আপনারাই আপনাদের নতুন সরকার বেছে নেবেন।”

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে আমেরিকা স্পষ্ট করে দিল যে, তাদের লক্ষ্য শুধু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা নয়, বরং তেহরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও সুর মিলিয়ে বলেছেন, এই হামলা ইরানের মানুষের হাতে তাদের ভবিষ্যৎ তুলে দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করবে।

আক্রান্ত প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও আইআরজিসি সদর দফতর

হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশখিয়ানের সরকারি বাসভবন এবং দেশটির সবথেকে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC)-এর সদর দফতরও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো শীর্ষ নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়নি, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যে ব্যাপক, তা স্পষ্ট। গত বছরগুলোতে যেখানে হামলা হতো ভূগর্ভস্থ স্থাপনায়, এবার সরাসরি নেতাদের অফিস ও বাসভবনকে নিশানায় রাখা কৌশলের এক বিশাল পরিবর্তন বলে মনে করা হচ্ছে।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের নতুন মোড়

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক শশাঙ্ক জোশী মনে করেন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু অত্যন্ত চতুরতার সাথে এই হামলার দায়ভার ইরানের জনগণের আকাঙ্ক্ষার ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। এর ফলে যদি সরাসরি আক্রমণ ব্যর্থও হয়, তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে। ইরানে গত কয়েক বছর ধরে চলা অভ্যন্তরীণ জনবিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এই হামলা নতুন করে দেশটিতে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে তেহরানের দিকে। আলি খামেনেই কি অচিরেই প্রকাশ্যে এসে কোনো বার্তা দেবেন, নাকি ইরান বড় কোনো পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে? পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের পারদ এখন টগবগ করে ফুটছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *