খামেনেই খতম এবং দুবাইয়ের বন্দরে বিধ্বংসী আগুন নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয় – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। ইরান সরকার ও দেশটির শক্তিশালী সেনাবাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিয়েছে যে, তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই আর বেঁচে নেই। আমেরিকা ও ইজরায়েলের এক যৌথ বিমান হামলায় খামেনেইর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান। এই ঘটনায় ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
খামেনেইর অন্তিম মুহূর্ত এবং পরিবারের মৃত্যু
খবর অনুযায়ী, শনিবার যখন আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের ওপর দিয়ে আগুনের বৃষ্টি ঝরাচ্ছিল, তখন খামেনেই তার তেহরানের দপ্তরেই অবস্থান করছিলেন। সেই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, এই ভয়াবহ হামলায় কেবল খামেনেই নন, বরং তার কন্যা এবং জামাতাও প্রাণ হারিয়েছেন। একদিকে যখন ইরান সরকার শোকস্তব্ধ, তখন খামেনেইর পতন উদ্যাপন করতে ইরানের কিছু প্রান্তে সাধারণ মানুষের উৎসব পালনের খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে আগুনের লেলিহান শিখা ও দুবাইয়ে হামলা
ইরানের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির আঁচ সরাসরি গিয়ে পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাশাহীতে। আমেরিকার রিপোর্ট অনুযায়ী, দুবাইয়ের আকাশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় তার জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ গিয়ে পড়ে বিখ্যাত ‘জেবেল আলি পোর্টে’। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই সমুদ্রবন্দরে বিধ্বংসী আগুন ছড়িয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, দুবাইয়ের আইকনিক ‘বুর্জ আল আরব’ হোটেলের বাইরের অংশেও আগুনের খবর মিলেছে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রমও এর ফলে বিঘ্নিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
শ্রীনগরে শোকের ছায়া ও বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের মেঘ
খামেনেইর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভারতের কাশ্মীরের শ্রীনগরে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক হাজার মানুষ লাল চকে জড়ো হয়ে ইরানের Supreme \titleonly লিডারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছেন। তারা আমেরিকা ও ইজরায়েলের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রদূতের বিস্ফোরক দাবি
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “ইজরায়েল সফলভাবে আমেরিকাকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের এক অতল গহ্বরে টেনে নামাতে সক্ষম হয়েছে।” তার এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই হামলা কেবল ইরানের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা পূর্ণাঙ্গ বিশ্বযুদ্ধের রূপ নিতে পারে।
এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতি
- ইরান: খামেনেইর মৃত্যু নিশ্চিত, ৪০ দিনের শোক এবং আইআরজিসি-র পালটা হামলার হুমকি।
- দুবাই: জেবেল আলি বন্দর এবং বুর্জ আল আরব এলাকায় আগুনের তাণ্ডব।
- কাশ্মীর: শ্রীনগরের লাল চকে খামেনেইর জন্য বিশাল শোক মিছিল।
- কূটনীতি: আমেরিকা-ইজরায়েল বনাম ইরান অক্ষের মধ্যে যুদ্ধের দামামা।
মধ্যপ্রাচ্যের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।

