খ্রিস্টান ধর্ম নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য, ক্ষমাপ্রার্থী হেভিওয়েট পদ্ম নেতা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
শিলং: মেঘালয়ের শান্ত রাজনীতিতে হঠাৎই ধর্মীয় মেরুকরণের উত্তাপ। খ্রিস্টান ধর্ম ও যিশু খ্রিস্টকে নিয়ে চরম অবমাননাকর মন্তব্য করে এবার জনরোষের মুখে পড়লেন বিজেপি নেতা তথা মেঘালয়ের প্রাক্তন নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সুনীল দেওধর। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো হয়ে ওঠে যে, শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থান থেকে পিছু হটে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বাধ্য হলেন এই হেভিওয়েট পদ্ম নেতা।
কী ঘটেছিল ঠিক?
গত সপ্তাহে মেঘালয়ের একটি জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় মেজাজ হারিয়ে ফেলেন সুনীল দেওধর। সেখানে তিনি দাবি করেন, যিশু খ্রিস্ট এদেশের কেউ নন, তিনি একজন ‘বহিরাগত’ এবং তাঁর প্রবর্তিত ধর্মটিও এদেশের মাটিতে বহিরাগত। এখানেই থেমে থাকেননি তিনি; অভিযোগ উঠেছে যে বক্তব্যের এক পর্যায়ে খ্রিস্টান ধর্ম নিয়ে উপহাস ও বিদ্রুপও করেন তিনি। পাহাড়ি রাজ্য মেঘালয়ে যেখানে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেখানে এই মন্তব্য দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতিবাদের ঝড় ও আইনি পদক্ষেপ
দেওধরের এই মন্তব্যের পরই মেঘালয় জুড়ে প্রতিবাদের ঢেউ ওঠে। মেঘালয়ের শাসক দল ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘বিভেদমূলক রাজনীতি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। এনপিপি-র যুব শাখা শুধু বিবৃতি দিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগে সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।
পিছু হঠল বিজেপি
প্রাথমিকভাবে অনড় থাকলেও, রাজ্যে দলের ভাবমূর্তি সংকটে পড়ার আশঙ্কায় নড়েচড়ে বসে বিজেপি নেতৃত্ব। দলের অন্দরেই প্রবল চাপের মুখে পড়েন দেওধর। মেঘালয়ের আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ এবং স্থানীয় মানুষের সেন্টিমেন্টের কথা মাথায় রেখে শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খ্রিস্টান প্রধান উত্তর-পূর্ব ভারতে জমি শক্ত করতে চাওয়া বিজেপির জন্য দেওধরের এই মন্তব্য এক বড় ধাক্কা। নিজের মন্তব্যকে ব্যক্তিগত বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও, ক্ষোভের আগুন পুরোপুরি নিভেছে কি না, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে।

