গ্রেফতার ইন্দুবালা, কী দাবি তৃণমূলের? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
২০০৭ সালের উত্তাল নন্দীগ্রাম আন্দোলনের স্মৃতি উসকে দিয়ে সিবিআই-এর হাতে গ্রেফতার হলেন অন্যতম সাক্ষী ইন্দুবালা দাস। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পুরনো একটি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, অসুস্থতা ও বার্ধক্যের কারণে তিনি নিয়মিত হাজিরা দিতে পারছিলেন না বলেই তাঁকে আটক করা হয়েছে।
অসুস্থতার যুক্তি ও তৃণমূলের পাল্টা চাল
তৃণমূলের তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুজিত রায় এই গ্রেফতারির তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইন্দুবালা দেবী বর্তমানে যথেষ্ট বৃদ্ধ এবং শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল। চলাফেরা করার মতো ক্ষমতা না থাকায় তিনি আদালতে বা তদন্তের প্রয়োজনে সাক্ষ্য দিতে যেতে পারছিলেন না। সুজিত বাবুর অভিযোগ, ১৯ বছর পুরনো একটি মামলায় এভাবে একজন অসুস্থ বৃদ্ধাকে গ্রেফতার করা মানবিকতার পরিপন্থী।
বিজেপি ও সিপিএম আঁতাঁতের অভিযোগ
গ্রেফতারির এই ঘটনায় পুরনো ক্ষোভ উগরে দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। সুজিত রায় সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “২০০৭ সালে নন্দীগ্রামে যে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল, তার আসল অভিযুক্তরা সে সময় ছিল সিপিএমের হার্মাদ বাহিনী। আজ রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য সেই একই ব্যক্তিরা বিজেপির জামা গায়ে দিয়ে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।” তৃণমূলের অভিযোগ, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে সাক্ষীদের ভয় দেখাতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে এভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই গ্রেফতারি ঘিরে নন্দীগ্রামের মাটিতে ফের একবার রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। জেলা নেতৃত্ব এই ঘটনার বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে লড়াই করার ইঙ্গিত দিয়েছে।

