চাদরের নিচে লুকনো অসাড় ডান হাত আর ৪৫ বছরের রহস্য! খামেনেইর সেই ভয়ংকর দিনটির নেপথ্যে কী ছিল – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর প্রয়াণে তোলপাড় বিশ্ব রাজনীতি। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তেহরানে ৮৬ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন দীর্ঘ ৩৫ বছর ক্ষমতায় থাকা এই দাপুটে শাসক। খামেনেইর প্রয়াণের খবরের মাঝেই ফের চর্চায় উঠে এসেছে তাঁর ব্যক্তিজীবনের এক দীর্ঘস্থায়ী রহস্য— কেন দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে তাঁর ডান হাতটি সবসময় চাদরের নিচে ঢাকা থাকত?
সেই অভিশপ্ত ২৭ জুন এবং একটি ‘উপহার’
ঘটনাটি ১৯৮১ সালের। ইরান-ইরাক যুদ্ধের উত্তাল সময়ে একটি মসজিদে নামাজ পড়ার পর অনুসারীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন খামেনেই। সেই সময় তাঁর সামনে একটি টেপ রেকর্ডার রাখা হয়। আচমকাই সেই রেকর্ডার ফেটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। তদন্তে দেখা যায়, যন্ত্রটির ভেতরে তৎকালীন শাসকবিরোধী জঙ্গি সংগঠন ‘ফুরকান গ্রুপ’-এর পক্ষ থেকে একটি চিরকুট ছিল যাতে লেখা ছিল— ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্রের জন্য উপহার’।
পক্ষাঘাতগ্রস্ত হাত এবং অদম্য জেদ
ওই প্রাণঘাতী হামলায় খামেনেইর স্বরযন্ত্র ও ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সবথেকে বড় আঘাত লাগে তাঁর ডান হাতে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর প্রাণ ফিরে পেলেও তাঁর ডান হাতটি চিরতরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা অবশ হয়ে যায়। শারীরিক এই সীমাবদ্ধতাকে কোনোদিন নিজের দুর্বলতা হতে দেননি তিনি। খামেনেই বলেছিলেন, “আমার হাতের প্রয়োজন নেই, মস্তিষ্ক আর জিহ্বা কাজ করলেই যথেষ্ট।” এরপর থেকেই তিনি বাঁ হাতে লেখা রপ্ত করেন এবং ইরানের শাসনব্যবস্থার শীর্ষে আরোহণ করেন।
রহস্যময় ব্যক্তিজীবন ও পরিবার
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে খামেনেইর ব্যক্তিগত তথ্য সবসময়ই পর্দার আড়ালে ছিল। স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ এবং ছয় সন্তানকে নিয়ে তাঁর সংসার মূলত ইরানেই সীমাবদ্ধ। তবে জানা যায়, তাঁর কিছু আত্মীয় প্যারিসসহ বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাস করেন। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের শাসনকালের অবসান ঘটিয়ে খামেনেইর বিদায় এখন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

