লেটেস্ট নিউজ

‘চোখে চোখ রেখে লড়াই হবে’, বীরভূমে হুঙ্কার মীনাক্ষীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রামপুরহাট: পঞ্চায়েত ও লোকসভা ভোটের রেশ কাটতে না কাটতেই বীরভূমের মাটিতে দাঁড়িয়ে তৃণমূল ও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানাল বাম নেতৃত্ব। রবিবার বিকেলে রামপুরহাট কলেজ মাঠের জনসভা থেকে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় থেকে মহম্মদ সেলিম— প্রত্যেকের নিশানায় ছিল শাসকদলের দুর্নীতি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা।

‘আধাখেচরা বাঘ’ কটাক্ষ মীনাক্ষীর

বীরভূমের মাটিতে দাঁড়িয়ে নাম না করে অনুব্রত মণ্ডলকে ‘আধাখেচরা বাঘ’ বলে কটাক্ষ করেন ডিওয়াইএফআই নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এবারের লড়াই হবে চোখে চোখ রেখে। ডিসিআরের নামে যারা কোটি কোটি টাকা লুট করেছে, তাদের রেয়াত করা হবে না। ওই লুটের টাকার গেটে লাল ঝাণ্ডার তালা ঝুলবে।” বীরভূমের পাথর শিল্পে শ্রমিকদের দুর্দশা এবং সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “পুলিশ আর তৃণমূল মিলে জেলাটাকে লুটে খাচ্ছে, আর সাধারণ মানুষের ফুসফুসে ঢুকছে পাথরের গুঁড়ো। মানুষের পেটে হাত দিয়ে ওই লুটের টাকা বের করে আনবে সাধারণ মানুষই।”

ভোটার তালিকা নিয়ে সরব সেলিম

রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এদিন ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকারের আঁতাতের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, “মৃতদের নাম কাটার বদলে লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির দোহাই দিয়ে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষকে নোটিস পাঠিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে। ভোটারদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই চক্রান্ত আমরা মানব না।” তিনি আরও যোগ করেন, বাম জমানার আইনের শাসনের অভাব আজ স্পষ্ট এবং প্রতিটি দুর্নীতির হিসাব নেওয়া হবে।

তৃণমূলের পাল্টা জবাব

সিপিএমের এই বড় সমাবেশকে অবশ্য গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পাল্টা দাবি, “বামেরা প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। সাধারণ মানুষ যখন সমস্যায় পড়েন, তখন তাঁদের দেখা যায় না। এখন স্রেফ প্রচারের আলোয় ফিরতে উল্টোপাল্টা কথা বলছেন।”

১০০ দিনের কাজের বকেয়া, ওয়াকফ আইন এবং ডিসিআর দুর্নীতির মতো একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখে এদিনের সভায় বাম কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বীরভূমের রাজনৈতিক সমীকরণে এই সভা কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *