লেটেস্ট নিউজ

ছয় সিটিতে বিএনপির হেভিওয়েট নেতারা প্রশাসক, নির্বাচন নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে ধোঁয়াশা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিউজ ডেস্ক । ঢাকা

জাতীয় নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় বড় ধরনের রদবদল নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তোলপাড়। ঢাকার দুই সিটিসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি সিটি কর্পোরেশনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের ‘পূর্ণকালীন প্রশাসক’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আর এই নিয়োগ ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে— তবে কি ঝুলে যাচ্ছে সিটি নির্বাচন?

তালিকায় যারা আছেন গত রোববার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সিলেট ও খুলনায় এই নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন:

  • ঢাকা দক্ষিণ: আবদুস সালাম (বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা)
  • ঢাকা উত্তর: মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন
  • খুলনা: নজরুল ইসলাম মঞ্জু
  • সিলেট: আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী
  • নারায়ণগঞ্জ: মো. সাখাওয়াত হোসেন খান
  • গাজীপুর: মো. শওকত হোসেন সরকার

নির্বাচন কি অনিশ্চিত? আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটির মেয়াদ গত বছরের জুনেই শেষ হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ২২শে ফেব্রুয়ারি। যদিও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ইসিকে চিঠি দিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে, কিন্তু কমিশনার আনোয়ারুল ইসলামের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, আইন ও পরিবেশগত অনেক জটিলতা এখনও বাকি।

রাজনৈতিক বিতর্ক ও বিরোধীদের হুঁশিয়ারি বিএনপি নেতাদের এই নিয়োগকে ‘নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার একে ‘গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি’ বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, দ্রুত নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া না হলে তারা আন্দোলনে নামবেন।

বিশ্লেষকদের অভিমত সাবেক স্থানীয় সরকার সচিব আবু আলম শহীদ খান জানান, শুধু মেয়র পদে প্রশাসক বসিয়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা কঠিন, কারণ কাউন্সিলর পদগুলোও শূন্য। অন্যদিকে, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, সংবিধান অনুযায়ী দ্রুত নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করলে রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবশ্য আশ্বস্ত করেছেন যে, সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা জনদুর্ভোগ লাঘবে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন এবং মেয়াদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে সেই ‘ধাপ’ কবে শুরু হবে, তা নিয়ে কাটছে না ধোঁয়াশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *