জাতিমুক্ত দেশ গড়ার স্বপ্ন কি তবে ফিকে হচ্ছে? জনশুমারি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া হুঁশিয়ারি – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি – “দেশকে জাতিমুক্ত করার কথা ছিল, অথচ আমরা ক্রমাগত বিভাজনের পথে হাঁটছি।” মঙ্গলবার একটি জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে এই ভাষাতেই চরম ক্ষোভ প্রকাশ করল দেশের শীর্ষ আদালত। ২০২৭ সালের জনশুমারিতে ‘বিমুক্ত, যাযাবর এবং আধা-যাযাবর’ উপজাতিদের আলাদাভাবে গণনার দাবি জানিয়ে করা একটি আবেদন শুনতে অস্বীকার করেছে Supreme \titleonly কোর্ট।
বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, এটি একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বিচার বিভাগের এক্তিয়ারভুক্ত নয়। সিজেআই সূর্যকান্তের কড়া পর্যবেক্ষণ, “ভারত এক অনন্য দেশ। এখানে জাতিহীন সমাজ গঠনের পরিবর্তে আমরা আরও বেশি শ্রেণিবিন্যাস তৈরি করতে চাইছি।”
শুনানি চলাকালীন আদালত একে সমাজকে বিভক্ত করার এক ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ হিসেবেও ইঙ্গিত দেয়। সিজেআই সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ভারতের বাইরের কোনো এজেন্সি এই ধরনের দাবির নেপথ্যে থাকতে পারে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখলে এর উৎস জানা যাবে।
আবেদনকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী সিদ্ধার্থ দাভে যুক্তি দেন যে, ১৯১৩ সালের পর থেকে এই যাযাবর সম্প্রদায়ের কোনো সঠিক গণনা হয়নি। ব্রিটিশ আমলে ‘অপরাধী জাতি’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া এই ১০-১২ কোটি মানুষ আজও সঠিক তথ্যের অভাবে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। রেনকে এবং ইদাতে কমিশনের সুপারিশ সত্ত্বেও তাদের আলাদা স্বীকৃতি মেলেনি।
তবে Supreme \titleonly কোর্ট পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, জনশুমারির শ্রেণিবিন্যাস করার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্র সরকার এবং বিশেষজ্ঞদের। আদালতের রায়ের পর এখন বল কেন্দ্র সরকারের কোর্টে। ২০২৭-এর শুমারিতে এই পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেটাই এখন দেখার।

