ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার ছক কষছে ইরান! রাষ্ট্রসংঘে আমেরিকার বিস্ফোরক দাবিতে কাঁপছে বিশ্ব – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর খবরের মাঝেই এবার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনল আমেরিকা। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) মার্কিন অ্যাম্বাসেডর মাইক ওয়াল্টজ দাবি করেছেন, নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার চক্রান্ত করছে ইরান সরকার। গত ৪৭ বছর ধরে ইরান যেভাবে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ এবং ইজরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার ডাক দিচ্ছে, ট্রাম্পের ওপর এই হামলা সেই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রেরই অংশ বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
খামেনেইর মৃত্যুতে উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য: নেপথ্যে কি সৌদি আরব?
ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেইর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। খামেনেইর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট। তাদের দাবি অনুযায়ী, ইরানের ওপর এই ভয়াবহ আক্রমণে নেপথ্যে বড় ভূমিকা রয়েছে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মহম্মদ বিন সালমানের। যদি এই দাবি সত্যি হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ এক লহমায় বদলে যেতে পারে।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পদধ্বনি! আসরে নামছে রাশিয়া ও চিন?
খামেনেইর প্রয়াণে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। সে দেশের মসজিদগুলোতে কান্নার রোল উঠলেও ভেতরে ভেতরে যুদ্ধের আগুন জ্বলছে। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই অপমানের বদলা নেওয়া হবে। ইরানের সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই এক ‘ভয়ঙ্কর সামরিক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা করেছে। তাদের লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে থাকা আমেরিকার সমস্ত সামরিক ঘাঁটি এবং ইজরায়েল অধিকৃত অঞ্চলগুলো।
এখন প্রশ্ন উঠছে, এই আঞ্চলিক সংঘাত কি শেষ পর্যন্ত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে রূপ নেবে? কারণ, ইরানের ওপর এই সরাসরি হামলার পর রাশিয়া ও চিন হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। ইতিমধ্যেই রাশিয়ার পক্ষ থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে মহামন্দা ও মহাযুদ্ধের আশঙ্কাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
খামেনেইর মৃত্যুর পর ভেঙে পড়েছে ইরানের শাসনতন্ত্র। কিন্তু আইআরজিসি-র হুঁশিয়ারি বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, ট্রাম্পের ওপর হামলার যে পরিকল্পনা ইরান করেছে, তা ব্যর্থ করতে আমেরিকা এখন আরও আগ্রাসী নীতি নিতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যেকোনো মুহূর্তে আমেরিকার ঘাঁটি লক্ষ্য করে গর্জে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে এক আগ্নেয়গিরির ওপর দাঁড়িয়ে আছে বর্তমান বিশ্ব রাজনীতি।

