ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজর যখন ইরানে তখন কিমের সাইবার হানায় তছনছ আমেরিকা
:max_bytes(150000):strip_icc():focal(737x39:739x41)/donald-trump-kim-jong-un-102622-2aef7f67d4ba4e549007e48fe4452682.jpg)
ইরান সংঘাত নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বিশ্বমঞ্চে ব্যস্ত, সেই সুযোগে পর্দার আড়ালে আমেরিকাকে বড়সড় ডিজিটাল ধাক্কা দিলেন কিম জং উন। উত্তর কোরিয়ার প্রশিক্ষিত হ্যাকারদের দাপটে বর্তমানে দিশেহারা কয়েক হাজার মার্কিন কো ম্পা নি। সাম্প্রতিক এক সাইবার হানায় কিমের হ্যাকাররা মার্কিন সংস্থাগুলোর সফটওয়্যারে আড়ি পেতে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি ক্রিপ্টোকারেন্সি। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, এই বিশাল অঙ্কের অর্থ সরাসরি ব্যয় করা হচ্ছে পিয়ংইয়ং-এর পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে।
গত মঙ্গলবার এক বিধ্বংসী সাইবার হামলার সাক্ষী থাকল আমেরিকা। উত্তর কোরিয়ার মদতপুষ্ট হ্যাকাররা মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে ‘অ্যাক্সিওস’ নামক একটি জনপ্রিয় মার্কিন সফটওয়্যারের অ্যাডমিন অ্যাকাউন্টে অনুপ্রবেশ করে। স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে অর্থায়ন—যেহেতু সব খাতের কো ম্পা নিই ওয়েবসাইট পরিচালনার জন্য এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে, তাই এই হ্যাকিংয়ের প্রভাবে দেশজুড়ে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। গুগলের মালিকানাধীন সাইবার গোয়েন্দা সংস্থা ‘ম্যান্ডিয়েন্ট’ নিশ্চিত করেছে যে, এই পরিকল্পিত নাশকতার নেপথ্যে পিয়ংইয়ং-এর হাত রয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা গবেষকদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং কিম প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ। ‘হান্ট্রেস’ নামক একটি সংস্থার গবেষক জন হ্যামন্ড জানিয়েছেন, তাঁরা ইতিমধ্যেই ১৩৫টি হ্যাক হওয়া ডিভাইস শনাক্ত করেছেন। গত বছরেই উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা রেকর্ড ১.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করেছিল। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, কিমের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির প্রায় অর্ধেক অর্থ আসে এই ডিজিটাল ডাকাতির মাধ্যমে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মহলে সুনামের তোয়াক্কা না করেই একনায়ক কিম জং উন তাঁর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। গুগলের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘উইজ’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্রিপ্টো চুরির বিষয়টি প্রমাণিত হলেও পিয়ংইয়ং তা নিয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত নয়। এখন প্রশ্ন উঠছে, মার্কিন প্রশাসন যখন বহিবিশ্বে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে ব্যস্ত, তখন দেশের অভ্যন্তরীণ করপোরেট পরিকাঠামোয় উত্তর কোরিয়ার এই অবাধ লুটপাট রুখতে ওয়াশিংটন কেন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
