লেটেস্ট নিউজ

তৃণমূলের জন্য থমকে আছে অনুপ্রবেশ রোখার কাজ! কৃষ্ণনগরের সভা থেকে মমতাকে তীব্র আক্রমণ নাড্ডার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজিয়ে সীমান্ত জেলা নদীয়া থেকে রাজ্যের শাসকদলকে সরাসরি নিশানা করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা। রবিবার কৃষ্ণনগরের দিগনগরে ‘সংকল্প পরিবর্তন যাত্রা’য় অংশ নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ শেষ করা যাচ্ছে না।

সীমান্ত সুরক্ষা ও অনুপ্রবেশ ইস্যু

জনসভা থেকে নাড্ডা দাবি করেন, “তৃণমূল সরকার জমি দিচ্ছে না, তাই সীমান্তে ফেন্সিং করা সম্ভব হচ্ছে না। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সীমান্ত সম্পূর্ণ সিল করা হবে এবং অনুপ্রবেশ চিরতরে বন্ধ হবে।” উল্লেখ্য, নদীয়ার ২২২ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মধ্যে এখনও প্রায় ২৩.৭ কিলোমিটার এলাকা কাঁটাতারহীন। এই সুযোগ নিয়ে অতীতে অনেক কুখ্যাত জঙ্গি ও অপরাধী এই জেলাকে করিডোর হিসেবে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

রাজনৈতিক কৌশল

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি ‘অনুপ্রবেশ’ এবং ‘সীমান্ত নিরাপত্তা’কে প্রধান হাতিয়ার করতে চাইছে। বিশেষ করে মুরুটিয়া, তেহট্ট ও হাঁসখালির মতো সীমান্ত এলাকায় পাচার রুখতে বিএসএফ-এর সমস্যার কথা তুলে ধরে তৃণমূলকে চাপে ফেলাই গেরুয়া শিবিরের মূল লক্ষ্য।

ভোটার তালিকা নিয়ে ক্ষোভ ও জনশূন্য মাঠ

এদিন নাড্ডার ভাষণে দুর্নীতি ও কাটমানি ইস্যু থাকলেও, নদীয়ার অন্যতম জ্বলন্ত সমস্যা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) বা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে তিনি নীরব ছিলেন। জেলায় প্রায় ৬২ হাজার মানুষের নাম বাদ পড়া এবং ২ লক্ষ ৩০ হাজারের বেশি নাম বিচারাধীন থাকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছ থেকে এই বিষয়ে কোনো আশ্বাস না পেয়ে সভার মাঝপথেই জনতাকে মাঠ ছাড়তে দেখা যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খান বিজেপি কর্মীরা।

এদিনের কর্মসূচিতে জেপি নাড্ডা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং রাহুল সিনহা। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে নদীয়ার মাটি থেকে রাজ্য রাজনীতিতে মেরুকরণের পারদ আরও চড়ালেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *