তৃণমূলের পতাকা হাতেই কি মোহভঙ্গ? ভরা সভায় হঠাৎ কেন সেলিমদার কাছে ক্ষমা চাইলেন প্রতীক উর – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
February 25, 202612:25 pm
দিন কয়েক আগেই আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে ঘাসফুলের পতাকা তুলে নিয়েছেন বাম শিবিরের একসময়ের লড়াকু মুখ প্রতীক উর রহমান। কিন্তু যোগদানের সপ্তাহ পেরোতে না পেরোতেই ভোলবদল! এবার খোদ সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চাওয়ার কথা জানালেন এই যুব নেতা। তবে কি তৃণমূলে গিয়েই পস্তাতে শুরু করেছেন তিনি? তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক জল্পনা।
সেলিমদাকে দেখলেই হাত ধরে বলব ক্ষমা করে দিন
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রতীক উর রহমানকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যদি বন্ধ ঘরে মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়, তবে তিনি কী করবেন? জবাবে আবেগপ্রবণ হয়ে প্রতীক বলেন, “সেলিমদাকে দেখলেই প্রথমে জিজ্ঞেস করব কেমন আছেন? তারপর ওঁর হাত দুটো ধরে বলব, সেলিমদা আমায় ক্ষমা করে দিন।” তবে এই ক্ষমার নেপথ্যে রয়েছে একরাশ অভিমান। প্রতীকের দাবি, সেলিমের শেষ কিছু কথাই তাঁকে দলবদল করতে বাধ্য করেছে।
সহযোদ্ধাদের কাছেও চাইলেন মার্জনা
প্রতীক জানেন, তাঁর এই সিদ্ধান্তে বহু বাম কর্মী-সমর্থক চোট পেয়েছেন। যারা তাঁর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতেন, সেই বন্ধুদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “জানি হয়তো পারবেন না, তাও বলব আমায় ক্ষমা করে দিন।” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি নতুন দলে গিয়েই একা বোধ করছেন প্রতীক? নাকি পুরনো আদর্শের টান এখনও রয়ে গিয়েছে মনে?
রিচার্জ করার টাকা নেই, ‘বিক্রি’ হওয়ার তকমা ওড়ালেন প্রতীক
অনেকেই অভিযোগ তুলেছিলেন যে বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তিনি দলবদল করেছেন। সেই জল্পনা হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন এই বাম নেতা। তিনি পাল্টা দাবি করেন, “আমার ফোনে এখন ইনকামিং কল বন্ধ কারণ রিচার্জ করার পয়সা নেই। টাকা পেলে অন্তত ফোনটা তো রিচার্জ করতাম!” ২০ বছর বাম রাজনীতি করার পর এখন জীবনের আগামী ২০-৩০ বছর তৃণমূলকে দিতে চান তিনি। ‘গব্বর সিং’ তকমা দিলেও সেলিমের প্রতি শ্রদ্ধা ও অভিমানের মিশেলে প্রতীকের এই বয়ান বর্তমানে বঙ্গ রাজনীতির হট টপিক।

