লেটেস্ট নিউজ

তেহরানে মার্কিন ও ইজরায়েলি বাহিনীর প্রলয়ঙ্কারি হামলা, খামেনি সহ নিহত ২০০ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। রবিবার ভোরে এক নজিরবিহীন যৌথ অভিযানে ইরানকে কার্যত স্তব্ধ করে দিল আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক বাহিনী। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামক এই বিধ্বংসী হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরান সহ একাধিক রণকৌশলগত এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী এই অভিযানে খামেনি সহ ৪৮ জন শীর্ষ ইরানি নেতা নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের এই লেলিহান শিখা এখন পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

তেহরানে মৃত্যুমিছিল ও ট্রাম্পের চাঞ্চল্যকর দাবি

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ও ইজরায়েলি বাহিনীর এই যৌথ আকাশপথ হামলায় ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ইউনিট এবং নৌঘাঁটিগুলো ধুলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। তেহরানের আকাশে শুধু কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আর মুহুর্মুহু বিস্ফোরণের শব্দ। ইরানের সরকারি সূত্র জানাচ্ছে হামলায় নিহতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। সবথেকে বড় ধাক্কাটি এসেছে দেশটির নেতৃত্বে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন যে ইরানের নৌবাহিনীর ৯টি যুদ্ধজাহাজ সাগরে তলিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের নৌ সদর দপ্তর এখন ইতিহাসের অংশ।

প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে ইরান

শীর্ষ নেতৃত্বের এই ‘শহিদত্ব’ মেনে নিতে পারছে না ইরান। দেশটির সামরিক কমান্ডারেরা ইতিমধ্য়েই পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শুধু ইজরায়েল বা আমেরিকা নয় তেহরান এখন টার্গেট করছে তাদের মিত্র দেশগুলিকেও। দুবাইয়ের আইকনিক বুর্জ খলিফা এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালিয়েছে ইরান। পাশাপাশি বাহরিন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। ফলে যুদ্ধ এখন আর নির্দিষ্ট দুটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

সীমান্তে চরম উত্তেজনা ও ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান

ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) লেবানন সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘর ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যা একটি বৃহত্তর স্থলযুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই অভিযানে মার্কিন বাহিনীও ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে তাদের ৩ জন সেনা নিহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত। তবে ইজরায়েলি সীমানায় সুরক্ষাবলয় আরও মজবুত করা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আতঙ্ক

কূটনৈতিক আলোচনার সব পথ আপাতত বন্ধ। মধ্যপ্রাচ্যের এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতি ও শান্তিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে যদি দ্রুত কোনো আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ না ঘটে তবে এই ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সলতে পাকানোর কাজ করতে পারে। ধ্বংসের এই খেলায় শেষ পর্যন্ত কার জয় হবে তা অনিশ্চিত হলেও সাধারণ মানুষের জীবনে যে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে তা স্পষ্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *