লেটেস্ট নিউজ

দৃষ্টির বৈচিত্র্য ও বিবর্তন: মানুষের সামাজিক হয়ে ওঠার নেপথ্যে চোখের সাদা অংশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মানুষের চোখের মণির চারপাশের সাদা অংশ বা স্ক্লেরা কেবল শারীরিক বৈশিষ্ট্য নয়, বরং এটি পারস্পরিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের গবেষক মাইকেল টোমাসেলোর ‘কোঅপারেটিভ আই হাইপোথেসিস’ অনুযায়ী, এই সাদা অংশের কারণেই মানুষ চোখের ইশারায় মনের ভাব আদান-প্রদান করতে পারে। বিবর্তনের ফলে তৈরি হওয়া এই বৈপরীত্য মানুষকে একে অপরের প্রতি সহযোগী করে তুলেছে, যা সভ্যতা গড়ার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, শিম্পাঞ্জি বা অন্যান্য স্তন্যপায়ীদের চোখের চারপাশ সাধারণত গাঢ় রঙের হওয়ায় তাদের দৃষ্টির অভিমুখ বোঝা কঠিন। তবে মানুষের ক্ষেত্রে সাদা অংশে কালো মণির অবস্থান কম্পাসের সূচের মতো কাজ করে, যা অত্যন্ত সূক্ষ্ম সংবেদনশীলতা প্রকাশ করে। ১০৮ প্রজাতির স্তন্যপায়ীর ওপর চালানো পরীক্ষায় দেখা গেছে, যাদের চোখের চারপাশ উজ্জ্বল, তাদের মধ্যে নিজেদের প্রজাতির সঙ্গে বিবাদের প্রবণতা কম এবং সহযোগিতার মানসিকতা বেশি।

সম্প্রতি ২০২৫ সালের ‘বায়োলজিকাল রিভিউস’-এ প্রকাশিত একটি ভিন্ন মতানুসারে, শিম্পাঞ্জিদের চোখেও কিছুটা সাদা ভাব রয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা একমত যে, মানুষের চোখের এই বিশেষ গঠনই তাকে অন্যান্য প্রাণী থেকে আলাদা করেছে। চোখের ইশারা শত্রু বা বন্ধু নির্ধারণে সাহায্য করে বলেই মানুষ অন্য স্তন্যপায়ীদের তুলনায় কম কলহপ্রবণ। মূলত দৃষ্টির এই স্বচ্ছতাই মানুষকে একটি সামাজিক জীব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং একে অপরের ভাষা বুঝতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *