লেটেস্ট নিউজ

ধর্ষণের চেষ্টা না কি সরাসরি ধর্ষণ? ২০ বছরের পুরনো মামলায় ছত্তিশগড় হাইকোর্টের বড় রায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিউজ ডেস্ক

ধর্ষণ এবং ধর্ষণের চেষ্টার মধ্যে আইনি পার্থক্য ঠিক কোথায়? দীর্ঘ ২০ বছর পর এক চাঞ্চল্যকর মামলায় এই বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিল ছত্তিশগড় হাইকোর্ট। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ— যৌন মিলনের ক্ষেত্রে পুরুষ যৌনাঙ্গের প্রবেশ (Penetration) না ঘটলে তাকে আইনি পরিভাষায় ‘ধর্ষণ’ বলা যাবে না। এই যুক্তিতেই এক অভিযুক্তের সাজা কমিয়ে অর্ধেক করে দিল আদালত।

পুরনো সেই মামলা ও নিম্ন আদালতের রায়

ঘটনাটি ২০০৪ সালের ২১ মে-র। এক যুবতীকে জোরপূর্বক বাড়িতে নিয়ে গিয়ে যৌন হেনস্থার অভিযোগে অভিযুক্ত হন এক ব্যক্তি। ২০০৫ সালে নিম্ন আদালত ওই ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। কিন্তু এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্তের আইনজীবী।

মেডিক্যাল রিপোর্ট ও হাইকোর্টের যুক্তি

শুনানি চলাকালীন হাইকোর্টে অভিযুক্তের আইনজীবী দাবি করেন যে, নির্যাতিতার মেডিক্যাল রিপোর্টে তাঁর ‘হাইমেন’ (Hymen) অক্ষত ছিল। এর অর্থ যৌন অঙ্গের কোনো প্রবেশ ঘটেনি। বিচারপতি তাঁর রায়ে জানান, ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ৩৭৫ ধারা অনুযায়ী, ধর্ষণের অপরাধ প্রমাণ করতে ‘পেনিট্রেশন’ বা প্রবেশ একটি বাধ্যতামূলক শর্ত। যদি কেবল বীর্যপাত বা অঙ্গস্পর্শ ঘটে থাকে, তবে তা ৩৭৬/৫১১ ধারায় ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ হিসেবে গণ্য হবে, সরাসরি ‘ধর্ষণ’ নয়।

সাজা কমিয়ে অর্ধেক করল আদালত

নির্যাতিতার বয়ানের অসঙ্গতি এবং মেডিক্যাল রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বদলে দেয়।

  • অভিযুক্তকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬(১) ধারা অর্থাৎ ধর্ষণের দায় থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
  • পরিবর্তে তাঁকে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’-র দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
  • এর ফলে পূর্বের ৭ বছরের সাজা কমিয়ে ৩ বছর ৬ মাস করা হয়েছে এবং ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আদালত অভিযুক্তকে আগামী দুই মাসের মধ্যে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছে। এই ঐতিহাসিক রায় আইনি মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যেখানে যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে শারীরিক প্রমাণের কারিগরি দিকটি পুনরায় সামনে এল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *