নকল বিয়ে ও স্টুডেন্ট ভিসার ফাঁদ পেতে নারীদের বন্দি রাখতেন এপস্টাইন – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
February 15, 202610:09 am
মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টাইনকে নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসছে। মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত নতুন ফাইলগুলোতে দেখা গেছে, শুধুমাত্র প্রভাব খাটিয়েই নয়, বরং আইনি মারপ্যাঁচ ব্যবহার করে নারীদের নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতেন এই কুখ্যাত অপরাধী। স্টুডেন্ট ভিসা, ইংরেজি শিক্ষার কোর্স এবং সাজানো বিয়ের মাধ্যমে বিদেশি নারীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে বাধ্য করার এক ভয়ংকর জাল বিছিয়েছিলেন তিনি।
যেভাবে চলত ব্ল্যাকমেইল ও নিয়ন্ত্রণের খেলা
তদন্তে উঠে এসেছে, এপস্টাইন তার বলয়ে থাকা নারীদের ইমিग्रেশন স্ট্যাটাস বা ভিসা সংক্রান্ত সমস্যাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতেন। তার দীর্ঘদিনের বান্ধবী কারিনা শুলিয়াক ছিলেন এই কৌশলের অন্যতম উদাহরণ। কারিনার আমেরিকান ভিসা নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে এপস্টাইন তার বিশাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তাকে ডেন্টাল কলেজে ভর্তি করান এবং পরে এক মার্কিন নাগরিকের সাথে তার ‘ভুয়া’ বিয়ের ব্যবস্থা করেন।
২০১৩ সালে নিউ ইয়র্কে সেই রহস্যময় বিয়ের পর কারিনা গ্রিন কার্ড পান এবং ২০১৮ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পরপরই স্বামীকে ডিভোর্স দেন। নথিপত্রে দেখা গেছে, বিয়ের সার্টিফিকেটে বরের নাম গোপন রাখা হয়েছিল, কিন্তু ঠিকানা দেওয়া হয়েছিল এপস্টাইনের মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের।
শিক্ষার নামে ভিসার জালিয়াতি
শুধু কারিনা নন, আরও অনেক নারীর পড়াশোনার খরচ জোগাতেন এপস্টাইন। তবে এটি কোনো মহৎ কাজ ছিল না। স্প্যানিশ আমেরিকান ইনস্টিটিউট বা কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠানে নারীদের ভর্তি করিয়ে তাদের স্টুডেন্ট ভিসার ব্যবস্থা করা হতো, যাতে তারা দেশ ছাড়তে না পারে এবং এপস্টাইনের হাতের নাগালে থাকে।
তদন্তকারী ফাইলগুলো বলছে, এপস্টাইনের আইনজীবীরা সরাসরি এই ইমিগ্রেশন জালিয়াতির সাথে যুক্ত ছিলেন। কোনো নারীর ভিসার মেয়াদ শেষ হতে চললে তারা তড়িঘড়ি করে অন্য কোনো কোর্সে ভর্তি বা কাজের ভিসার আবেদন করে দিতেন। মূলত আইনিভাবে অসহায় করে তুলে নারীদের নিজের যৌন লালসার শিকারে পরিণত করাই ছিল এপস্টাইনের মূল লক্ষ্য।

