নধরের ভেলা, ক্ষমতার দম্ভ ও এক নিঃশব্দ প্রতিবাদের আখ্যান
পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের নতুন চলচ্চিত্র ‘নধরের ভেলা’ ক্ষমতার দম্ভ এবং পতনের এক চিরাচরিত সত্যকে পর্দায় তুলে ধরেছে। ‘দ্যি গ্রেট বেঙ্গল সার্কাস’-এর প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই কাহিনীতে দেখানো হয়েছে কীভাবে একজন স্বার্থপর ও শোষক ম্যানেজার তার আধিপত্য বজায় রাখতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত পরাজিত হন। ছবির মূল উপজীব্য হলো—ক্ষমতার শীর্ষে থাকলেও পতন অনিবার্য, যা ইতিহাসের পাতায় বারবার প্রমাণিত হয়েছে।
গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নধর নামের এক ধীর-স্থির ও শান্ত চরিত্রের মানুষ, যে প্রচলিত সিস্টেমের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে মুক্তির পথ খোঁজে। তার বিপরীতে রয়েছে সার্কাসের ম্যানেজার, যার একমাত্র লক্ষ্য মুনাফা এবং ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা। শোষিত শিল্পী শ্যামা যখন তার বেহুলা হওয়ার স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে জোরপূর্বক নাচতে বাধ্য হয়, তখন নধরের নীরব উপস্থিতি ও প্রতিবাদ এক অনন্য মাত্রা পায়।
অমিত সাহা, ঋত্বিক চক্রবর্তী এবং প্রিয়াঙ্কা সরকারের অনবদ্য অভিনয় ছবিটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বিশেষ করে সাত্যকি বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গীত ছবির অন্তর্লীন বেদনা ও প্রতিবাদের সুরকে দর্শকদের হৃদয়ে পৌঁছে দেয়। শেষ পর্যন্ত অবহেলিত নধরের হাত ধরেই দাপুটে ম্যানেজারের ক্ষমতাচ্যুতির মাধ্যমে পরিচালক দেখিয়েছেন যে, পরিবর্তনের প্রকৃত শক্তি সাধারণ মানুষের নীরবতার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।

