লেটেস্ট নিউজ

নারী এমনকি মাদী পশুর প্রবেশও নিষিদ্ধ! ১০০০ বছর ধরে এক রহস্যময় পাহাড় আগলে রাখছেন সন্ন্যাসীরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে যেখানে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিয়ে বিশ্বজুড়ে লড়াই চলছে, সেখানে ইউরোপের বুকেই রয়েছে এমন এক রহস্যময় স্থান যেখানে দীর্ঘ এক হাজার বছর ধরে কোনো নারী পা রাখার অনুমতি পাননি। শুধু মানুষ নয়, এমনকি কোনো মাদী পশু বা পাখিও সেখানে নিষিদ্ধ। গ্রিসের এই অদ্ভুত জনপদটির নাম ‘মাউন্ট আথোস’ (Mount Athos)।

নিষিদ্ধ এই দ্বীপের নেপথ্য কাহিনী

এজিয়ান সাগরের কোল ঘেঁষে অবস্থিত গ্রিসের এই পাহাড়ি অঞ্চলটি খ্রিস্টান সন্ন্যাসীদের একটি পবিত্র তীর্থস্থান। প্রায় ২০টি বিশাল গির্জা নিয়ে গঠিত এই দ্বীপে বর্তমানে প্রায় ২,০০০ সন্ন্যাসী বসবাস করেন। ১০৪৬ সালে বাইজেন্টাইন সম্রাট কনস্টানটাইন নবম একটি বিশেষ আইন (Avaton) জারি করে এখানে নারীদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেন। সন্ন্যাসীদের ব্রহ্মচর্য যাতে কোনোভাবে বিঘ্নিত না হয় এবং তাদের মন যাতে আধ্যাত্মিক সাধনা থেকে বিচ্যুত না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই এই কঠোর নিয়ম চালু করা হয়েছিল।

নারী পশুদের প্রবেশেও রয়েছে কঠোর বিধি

মাউন্ট আথোসের নিয়ম এতটাই অদ্ভুত যে এখানে গরু, ছাগল, ভেড়া বা মুরগির মতো কোনো স্ত্রী-লিঙ্গের গৃহপালিত পশুকেও রাখা যায় না। তবে এই নিয়মের একটি চমকপ্রদ ব্যতিক্রম আছে—বিড়াল। কেবল ইঁদুর ধরার জন্য মাদী বিড়ালদের এই দ্বীপে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। এছাড়া বন্য পশুপাখির ওপর মানুষের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বলে তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হয় না।

কেন একে ‘ভার্জিন মেরির বাগান’ বলা হয়?

অর্থোডক্স খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, যিশু জননী মেরি একবার এই দ্বীপের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে জায়গাটিকে নিজের জন্য চেয়ে নিয়েছিলেন। তাই পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দ্বীপে নারীত্বের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে কুমারী মেরিই বিরাজমান। তাঁর সম্মানার্থেই অন্য কোনো নারীর প্রবেশ এখানে ধর্মত নিষিদ্ধ।

অনুপ্রবেশের শাস্তি ও কড়াকড়ি

এই দ্বীপে প্রবেশ করা পুরুষদের জন্যও খুব একটা সহজ নয়। পর্যটক বা সাধারণ পুরুষদের সেখানে যেতে হলে বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। কোনো নারী যদি ছদ্মবেশে সেখানে ঢোকার চেষ্টা করেন এবং ধরা পড়েন, তবে গ্রিক আইন অনুযায়ী তাঁর ১২ মাস পর্যন্ত জেল হতে পারে। ১৯৫৩ সালে এক নারী পুরুষের ছদ্মবেশে সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করার পর থেকেই নিরাপত্তা ও আইন আরও কঠোর করা হয়েছে।

মাউন্ট আথোস আজও পৃথিবীর মানচিত্রে এক অনন্য ও রহস্যময় স্থান হয়ে টিকে আছে, যেখানে সময়ের চাকা যেন হাজার বছর আগের সেই প্রাচীন ঐতিহ্যে থমকে দাঁড়িয়ে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *