নেই চিকিৎসা, নেই ভ্যাকসিন.. মৃত্যুর হার ৭৫%! ভারতে কি ফের লকডাউনের মেঘ? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিপা ভাইরাস অ্যালার্ট: পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে এক অদৃশ্য আতঙ্কে কাঁপছে। হাসপাতালের করিডোর থেকে শুরু করে মোবাইলের স্ক্রিন—সর্বত্রই এখন আলোচনার কেন্দ্রে ‘নিপা ভাইরাস’।
এতদিন বিদেশের মাটিতে সীমাবদ্ধ মনে করা এই মহামারি এখন আমাদের দোরগোড়ায়। পশ্চিমবঙ্গে অন্তত পাঁচটি নিপা কেস নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। উদ্বেগের বিষয় হলো, আক্রান্তদের মধ্যে ডাক্তার এবং নার্সরাও রয়েছেন। প্রায় ১০০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
হাসপাতালে হাই অ্যালার্ট
কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার হাসপাতালগুলোতে আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে। স্বাস্থ্য দপ্তর কড়া নজরদারি শুরু করেছে। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা প্রত্যেক ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে, কারণ এতে সংক্রমণের গতি আরও ত্বরান্বিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সরকার জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।
নিপা ভাইরাস কেন এত বিপজ্জনক?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) নিপা ভাইরাসকে অত্যন্ত বিপজ্জনক ভাইরাসের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর কারণগুলো হলো:
- উচ্চ মৃত্যুহার: এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকে।
- মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব: এটি সাধারণ জ্বর দিয়ে শুরু হলেও দ্রুত এনসেফালাইটিস বা মস্তিষ্কের প্রদাহে রূপ নেয়, যা প্রাণঘাতী হতে পারে।
- চিকিৎসা নেই: এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এখনও পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি।
প্রধান লক্ষণসমূহ:
- শুরুতে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা এবং ক্লান্তি।
- কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং নিউমোনিয়ার লক্ষণ।
- মারাত্মক অবস্থায় মানসিক বিভ্রান্তি, চেতনা হারানো, খিঁচুনি বা কোমায় চলে যাওয়া।
ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়?
এটি একটি ‘জুনোটিক’ ভাইরাস, যা পশুপাখি থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়।
- বাদুড়: ফলখেকো বাদুড় এই ভাইরাসের প্রধান উৎস।
- দূষিত খাবার: বাদুড়ের লালা বা মলমূত্র দ্বারা দূষিত ফল বা খেজুরের রস পান করলে এটি ছড়াতে পারে।
- মানুষের মাধ্যমে: আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে অন্য সুস্থ ব্যক্তিও সংক্রমিত হতে পারেন।
প্রতিরোধের উপায়:
- ফল খাওয়ার আগে ভালো করে ধুয়ে বা খোসা ছাড়িয়ে খেতে হবে।
- পাখি বা অন্য প্রাণীর কামড়ানো ফল ভুলেও খাওয়া যাবে না।
- সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধুতে হবে।
- অসুস্থ পশুপাখির থেকে দূরে থাকতে হবে।

