পরিকাঠামোর অভাবে ট্রাইব্যুনালে তীব্র জট, দায়িত্ব ছাড়লেন প্রাক্তন বিচারপতি তপেন সেন

পরিকাঠামোর অভাবে ট্রাইব্যুনালে তীব্র জট, দায়িত্ব ছাড়লেন প্রাক্তন বিচারপতি তপেন সেন

রাজ্যের সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া লক্ষ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণে গঠিত ট্রাইব্যুনালে বড়সড় ধাক্কা। পরিকাঠামোগত অব্যবস্থার জেরে কাজ শুরুর আগেই তৈরি হয়েছে জটিলতা। এই পরিস্থিতির কারণে ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি তপেন সেন। মূলত পরিকাঠামোর অভাব এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা নিয়ে টানাপোড়েনের জেরেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

কমিশন সূত্রে খবর, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা গিয়েছে প্রায় ৬০ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত তালিকায় প্রায় ৫০ লক্ষের নিষ্পত্তি হলেও বহু ভোটারের নাম এখনও অধরা। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ২৩টি জেলার জন্য ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। এই কমিটিতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম ছাড়াও রয়েছেন প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু, রঞ্জিতকুমার বাগ ও সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বরা। ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা কেটে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এই ট্রাইব্যুনালে আপিলের সুযোগ ছিল।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে সমস্ত বিচারাধীন ভোটারদের সমস্যার নিষ্পত্তি করা হবে। কিন্তু বাস্তবে পরিকাঠামোর চরম অভাবে ট্রাইব্যুনালগুলি নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরুই করতে পারেনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই থমকে গিয়েছে ভোটারদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রক্রিয়া। এই দীর্ঘসূত্রিতা এবং প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণেই ট্রাইব্যুনালে থাকা একাধিক বিচারপতি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই পথেই হাঁটলেন বিচারপতি তপেন সেন।

ভোটের নির্ঘণ্টের মাঝে এভাবে ট্রাইব্যুনালে জট তৈরি হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে, ভোটের আগে কি আদৌ বাদ পড়া বা ‘ডি-ভোটার’দের সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে? পরিকাঠামোগত এই সংকট ট্রাইব্যুনালের বিশ্বাসযোগ্যতা ও কার্যকারিতাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাকি বিচারপতিলরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করবেন কি না, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *