পিরিয়ডে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া? মুক্তির সহজ উপায় জানুন – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
পিরিয়ড বা ঋতুস্রাবের সময় অনেক নারীই গোপনাঙ্গে চুলকানি, র্যাশ বা জ্বালাপোড়ার মতো অস্বস্তিকর সমস্যায় ভোগেন। অনেক সময় লোম পরিষ্কার করার পর বা ঘামের কারণেও এই অস্বস্তি বাড়ে। অনেকে ঘরোয়া উপায়ে হলুদ বা নারকেল তেল ব্যবহার করেন, তবে সঠিক কারণ না জেনে চিকিৎসা করা বিপজ্জনক হতে পারে। জেনে নিন কেন এই সমস্যা হয় এবং এর প্রতিকার কী।
অস্বস্তির মূল কারণসমূহ
- পরিচ্ছন্নতার অভাব: পিরিয়ডের সময় দীর্ঘক্ষণ একই প্যাড ব্যবহার করলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। ঠিকমতো পরিষ্কার না করলে আর্দ্রতা ও ঘামের কারণে ‘ভ্যাজাইনাইটিস’ হতে পারে, যার ফলে অস্বাভাবিক স্রাব ও চুলকানি হয়।
- ভুল পদ্ধতিতে লোম পরিষ্কার: গোপনাঙ্গের লোম ব্যাকটেরিয়া থেকে সুরক্ষা দেয়। বারবার রেজার দিয়ে শেভ করলে ত্বকে ক্ষত সৃষ্টি হয়ে জ্বালাপোড়া হতে পারে। প্রয়োজনে শেভ না করে ট্রিম করা বেশি নিরাপদ।
- সাবান ও রাসায়নিকের ব্যবহার: কড়া সুগন্ধিযুক্ত সাবান বা বডি ওয়াশ ব্যবহার করলে গোপনাঙ্গের স্বাভাবিক pH মাত্রা নষ্ট হয়ে যায়। এতে ত্বক শুষ্ক হয়ে চুলকানি ও সংক্রমণের সৃষ্টি হয়।
- চর্মরোগ ও সংক্রমণ: কোনো অ্যালার্জি বা চর্মরোগ থাকলে ওই স্থানে লালচে ভাব ও দানা দেখা দিতে পারে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে যৌন সংক্রামক ব্যাধিও এর কারণ হতে পারে।
- মানসিক চাপ ও হরমোন: দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের ফলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে গোপনাঙ্গ শুষ্ক হয়ে ব্যাকটেরিয়া বিস্তারের সুযোগ পায়।
সুস্থ থাকার জরুরি পরামর্শ
- শুকনো রাখুন: গোপনাঙ্গ সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখার চেষ্টা করুন। ভিজে ভাব থাকলে সংক্রমণের ভয় বেশি থাকে।
- প্যাড পরিবর্তন: পিরিয়ডের সময় প্রতি ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা অন্তর স্যানিটারি ন্যাপকিন বা প্যাড বদলে ফেলুন।
- রাসায়নিক এড়িয়ে চলুন: ওই সংবেদনশীল স্থানে কড়া সাবান বা রাসায়নিক জেল ব্যবহার করবেন না। শুধু হালকা গরম জল ব্যবহার করাই যথেষ্ট।
- সঠিক অন্তর্বাস: সুতির এবং ঢিলেঢালা অন্তর্বাস পরুন যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে।
- পুষ্টিকর খাবার ও বিশ্রাম: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবার খান এবং মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন।
সমস্যা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা অসহ্য বোধ হয়, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

