প্রবল জনরোষের জয়! কোরাপুটে আমিষ বিক্রির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ওড়িশা সরকারের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ভুবনেশ্বর: সাধারণতন্ত্র দিবসে আমিষ খাদ্যের ওপর জারি করা বিতর্কিত নিষেধাজ্ঞা শেষ পর্যন্ত তুলে নিতে বাধ্য হলো ওড়িশার কোরাপুট জেলা প্রশাসন। বিজেপি শাসিত রাজ্যে খাদ্যাভ্যাসে সরকারি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী মহলের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে পিছু হঠলেন জেলা কালেক্টর মনোজ সত্যওয়ান মহাজন।
বিতর্কের সূত্রপাত ও সরকারি ফরমান
গত শুক্রবার কোরাপুটের জেলা কালেক্টর এক নজিরবিহীন নির্দেশিকা জারি করেন। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়, ২৬ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবস পালন উপলক্ষে গোটা জেলায় মাছ, মাংস, ডিম বা অন্য কোনো আমিষ পণ্য বিক্রি করা যাবে না। এই নির্দেশ কড়াকড়িভাবে কার্যকর করার জন্য ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (BDO) এবং স্থানীয় প্রশাসনকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। জাতীয় উৎসবের দিনে কেন আমিষ খাদ্য নিষিদ্ধ করা হবে, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাজপথ—সবত্রই নিন্দার ঝড় ওঠে।
প্রতিবাদের মুখে ভোলবদল
ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ দেখে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারে প্রশাসন। রবিবারের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জেলা কালেক্টর জানান, “যথাযথ পুনর্বিবেচনার পর পূর্বের নির্দেশটি বাতিল করা হলো।” আগের ফরমানের সপক্ষে সাফাই দিয়ে তিনি বলেন, সাধারণতন্ত্র দিবস উদযাপন কমিটির সুপারিশ মেনেই প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে নাগরিক অধিকার এবং খাদ্যের স্বাধীনতার প্রশ্নে সরকারের এই পিছু হঠাকে সাধারণ মানুষের বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক তর্জা ও কংগ্রেসের কটাক্ষ
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওড়িশার রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোরদার চাপানউতোর। কোরাপুটের কংগ্রেস সাংসদ সপ্তগিরি উলাকা এই ইস্যুতে সরাসরি বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করেছেন। এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “শেষ পর্যন্ত আমিষ বিক্রির ওপর ওই অসাংবিধানিক নির্দেশিকা বাতিল করতে হলো। মানুষের ব্যক্তিগত অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা সফল হবে না।” বিরোধীদের দাবি, সাধারণতন্ত্র দিবসের মতো একটি গণতান্ত্রিক দিনে খাদ্যাভ্যাসের ওপর বিধিনিষেধ চাপিয়ে সংবিধানের অবমাননা করা হয়েছিল।
আপাতত জেলা প্রশাসনের এই নতুন সিদ্ধান্তে স্বস্তিতে কোরাপুটের ব্যবসায়ীরা। সোমবার ২৬ জানুয়ারি যথারীতি মাছ ও মাংসের বাজার খোলা থাকবে এবং মানুষের খাদ্যাভ্যাসে কোনো আইনি বাধা থাকছে না।

