প্রাচীন রোমান চিকিৎসায় মানুষের মলের ব্যবহার, মিলল ঐতিহাসিক প্রমাণ
প্রাচীন রোমান সভ্যতায় মানুষের মল দিয়ে ওষুধ তৈরির যে বর্ণনা প্রাচীন পুঁথিতে পাওয়া যেত, সম্প্রতি তুরস্কের গবেষকরা তার বাস্তব প্রমাণ খুঁজে পেয়েছেন। সিভাস কামহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক সেনকার আতিলা বারগমা মিউজিয়ামের প্রাচীন কাচের পাত্র বিশ্লেষণ করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন। একটি দ্বিতীয় শতাব্দীর পাত্রে মানুষের মল, জলপাই তেল এবং বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদের মিশ্রণ পাওয়া গেছে, যা তৎকালীন চিকিৎসা পদ্ধতির এক অনন্য নিদর্শন।
রোমান সম্রাটদের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ক্লডিয়াস গ্যালেনের পুঁথিতে এই ধরনের ওষুধ তৈরির উল্লেখ ছিল। গবেষকদের মতে, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণসম্পন্ন গাছ-গাছালির সাথে মলের এই মিশ্রণ সংক্রমণ বা প্রদাহ নিরাময়ে ব্যবহৃত হতো। মলের দুর্গন্ধ ঢাকতে সুগন্ধির বোতলকে ওষুধের পাত্র হিসেবে ব্যবহার করার কৌশলও প্রাচীন চিকিৎসকদের উন্নত চিন্তাধারার পরিচয় দেয়। এই আবিষ্কার গ্যালেনের চিকিৎসা শাস্ত্রের ঐতিহাসিক সত্যতাকে প্রথমবারের মতো গবেষণাগারে প্রমাণিত করল।
মলের এই ঔষধি ব্যবহার কেবল রোমেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং প্রাচীন ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের চিকিৎসা ইতিহাসে এর অস্তিত্ব রয়েছে। বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানেও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ রোধে মলের উপাদান থেকে তৈরি ওষুধের ব্যবহার স্বীকৃত। জার্নাল অফ আর্কিওলজিক্যাল সায়েন্সে প্রকাশিত এই গবেষণাটি প্রাচীন রোমানদের চিকিৎসাগত দক্ষতা এবং প্রাকৃতিক উপাদানের বহুমুখী ব্যবহার সম্পর্কে নতুন করে ভাবাতে শুরু করেছে বিজ্ঞানীদের।

