বাইক চালকের গোপনাঙ্গে হাত, পরিবারকে ‘ডিজিটাল র্যাগিং’: কতটা ভয়াবহ এর প্রভাব? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা শহরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। যাত্রীসাথী অ্যাপের এক বাইক চালক অভিযোগ করেছেন যে, একজন যাত্রী রাইড চলাকালীন বারবার তাঁর অণ্ডকোষ স্পর্শ করছিলেন। বাইক চালক দু’বার সতর্ক করার পরেও যাত্রীটি কর্ণপাত করেননি। এরপর বাইক চালক ওই যাত্রীর ভিডিও ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
এই ঘটনায় অনেকেই বিস্মিত। যদিও কিছু নেটিজেন দাবি করেছেন যে, এমন ঘটনা কিছু ‘মানসিক অসুস্থ’ ব্যক্তি আগেও ঘটিয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়াতেই নেটিজেনরা অভিযুক্ত ব্যক্তির ‘তদন্ত’ শুরু করে। অভিযুক্তের পরিবারের ছবিও তার সাথে জুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এমনটা কি আদৌ যুক্তিযুক্ত? এটি নির্দোষ পরিবারের শান্ত জীবনে অশান্তি ডেকে আনতে পারে। এর পরিণতি কী হতে পারে?
বিশিষ্ট মনোরোগ চিকিৎসক ডাঃ দেবাঞ্জন পান bangla.aajtak.in-কে জানান, “আজকাল সকলের জীবনেই কমবেশি স্ট্রেস থাকে। মানুষ এই স্ট্রেস থেকে মুক্তি পেতে চায়। কিন্তু সৃজনশীল মাধ্যমের পরিবর্তে অনেকে রিলস, সোশ্যাল মিডিয়ার মতো অপশন বেছে নেয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ নিজের অবদমিত রাগ, ক্ষোভ প্রকাশ করার সুযোগ পায়। এটাই আসলে ট্রোলিং আকারে প্রকাশ পায়।”
অন্যদিকে, এই ট্রোলিংয়ের প্রভাব অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিবারের ওপরও পড়তে পারে, যদিও তারা নির্দোষ। তাদের ছবি পোস্ট করে হেনস্থা করা হচ্ছে।
ডাঃ দেবাঞ্জন পান এ প্রসঙ্গে বলেন, “যে মানুষটিকে কেন্দ্র করে পরিবারটি চলছে, সেই লোকটির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ না করেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার হচ্ছে। এমন হওয়ার ফলে পরিবারটির সামাজিক মানসম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এমনকি অভিযুক্তের সন্তানকে স্কুল-কলেজেও সমস্যার সম্মুখীন হতে হতে পারে এবং তারা মানসিক অবসাদে ভুগতে পারে। এছাড়াও, এমন মানসিক চাপ সৃষ্টি হওয়ার ফলে ওই সন্তানও অনিচ্ছা সত্ত্বেও একজন ট্রোলার হয়ে উঠতে পারে। অর্থাৎ সোশ্যাল মিডিয়ার এই প্রভাবে একটি সুস্থ ছেলে বা মেয়ে অবচেতন মনে ট্রোলার হয়ে উঠতে পারে, ঠিক যেমন র্যাগিং করার প্রবণতা তৈরি হয়। ব্যক্তিগত জীবনেও ছেলে বা মেয়ের সম্পর্কে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।”

