বাজেটে ঘোষিত ৪ শতাংশ ডিএ নিয়ে বাড়ছে ধোঁয়াশা, ক্ষুব্ধ সরকারি কর্মীরা

রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে জটিলতা যেন কিছুতেই কাটছে না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বকেয়া ডিএ প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হলেও, তা নিয়ে সরকারি কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধছে। ফেব্রুয়ারির বাজেটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ষষ্ঠ বেতন কমিশনের অধীনে ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করলেও এপ্রিল মাস পড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। দুই মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও বর্ধিত সেই ডিএ-র টাকা হাতে না আসায় রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন কর্মীরা।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশে রাজ্য সরকার বকেয়া ২৫ শতাংশ ডিএ মেটাতে শুরু করলেও সেখানেও রয়েছে পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ। সরকারি কর্মীদের দাবি, প্রাপ্য অর্থ এবং মোবাইলে আসা বার্তার মধ্যে ব্যাপক অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বকেয়া টাকার অর্ধেক বা তারও কম দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকী, অনেক কর্মী এখনও পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়াই হাতে পাননি। এই টালবাহানাকে সরকারের ‘ছলচাতুরি’ হিসেবে দেখছেন আন্দোলনকারীরা, যার প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই কালীঘাট অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, পেনশনভোগীদের জন্য নবান্ন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সেখানে জানানো হয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে যাঁরা অবসর নিয়েছেন, তাঁদের বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। পারিবারিক পেনশনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আগামী ১৮০ দিন বা ৬ মাসের মধ্যেই পেনশনভোগীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা প্রদান করা হবে। তবে সাধারণ কর্মীরা এখনই এই আশ্বাসে স্বস্তি পাচ্ছেন না, বরং পূর্ণ পাওনার দাবিতে সুর চড়াচ্ছেন।
দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই এবং বাজেটে নতুন ঘোষণার পর সরকারি মহলে প্রত্যাশা ছিল ডিএ জট কাটার। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বকেয়া মেটানোর ধীর গতি এবং ঘোষিত ৪ শতাংশ ডিএ নিয়ে নীরবতা রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে। আগামী দিনে এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল।
