বাজেট ২০২৬: স্বাস্থ্য খাতে কি বরাদ্দ বাড়বে? হাসপাতাল, ওষুধ ও চিকিৎসায় বড় পরিবর্তনের প্রত্যাশা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেশের সাধারণ বাজেট পেশ হতে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন টানা নবমবারের মতো বাজেট পেশ করবেন, যা নিজেই একটি বিশাল রেকর্ড। তবে এবারের বাজেটে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা স্বাস্থ্য খাতকে কেন্দ্র করে।
করোনা পরবর্তী সময়ে দেশবাসী এটা স্পষ্ট বুঝতে পেরেছেন যে, একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাই যেকোনো দেশের মেরুদণ্ড। ভারতে আজও সাধারণ মানুষের কাছে চিকিৎসার খরচ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে সরকারি হাসপাতালে আধুনিক পরিকাঠামোর অভাব, অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয় মেটানো সাধারণের নাগালের বাইরে। এই প্রেক্ষাপটে মনে করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের বাজেটে সরকার স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে পারে।
স্বাস্থ্য খাতে ভারতের ব্যয় এখনও নগণ্য
বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় স্বাস্থ্য খাতে ভারতের খরচ এখনও অনেক কম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের জিডিপি-র প্রায় ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ স্বাস্থ্যের পেছনে ব্যয় করে। জাপানও তাদের মোট জাতীয় আয়ের ১০ শতাংশের বেশি ব্যয় করে চিকিৎসা পরিষেবায়। সেই তুলনায় ভারতের স্বাস্থ্য বাজেট অনেক উন্নয়নশীল দেশের চেয়েও নিচে। যদিও গত কয়েক বছরে ডিজিটাল হেলথ মিশন, আয়ুষ্মান ভারত যোজনা, মেডিকেল কলেজের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সস্তা ওষুধের ওপর সরকার গুরুত্ব দিয়েছে, তবুও প্রয়োজনের তুলনায় তা এখনও অনেক কম।
গত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের প্রাপ্তি
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেটে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের জন্য প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার সংস্থান রাখা হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বেশি ছিল। সেই বাজেটে আয়ুষ্মান ভারত যোজনার পরিধি বাড়ানো, ক্যানসারের ওষুধের ওপর কাস্টম ডিউটি বা শুল্ক ছাড়, নতুন এইমস (AIIMS) এবং মেডিকেল কলেজ খোলার মতো ঘোষণা ছিল। এতে স্পষ্ট যে স্বাস্থ্য খাত সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে, কিন্তু ২০২৬ সালের বাজেটে এই গতি কতটা বাড়বে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
ফার্মা সেক্টরের জন্য বিশেষ সমর্থনের দাবি
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ওষুধ শিল্প বা ফার্মা সেক্টরকেও বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইনের সমস্যা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আমেরিকার মতো দেশগুলোর বাণিজ্যিক নীতির প্রভাব ভারতীয় ওষুধ কো ম্পা নিগুলোর ওপর পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশে ওষুধের উৎপাদন এবং গবেষণায় (R&D) উৎসাহ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
শিশু স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রস্তাব
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দাবি, ভারতকে বিশেষভাবে শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর নজর দিতে হবে। দেশে শিশুদের সংখ্যা বিশাল হলেও তাদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির পেছনে আনুপাতিক হারে খরচ কম। দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে একটি সুস্থ ও শক্তিশালী ভারত গড়তে হলে শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর বিনিয়োগ বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।
বাজেট ২০২৬ থেকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা
আসন্ন বাজেট থেকে মানুষের প্রধান প্রত্যাশাগুলো হলো— সরকারি হাসপাতালের সংখ্যা ও গুণগত মান বৃদ্ধি, গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো শক্তিশালী করা, ওষুধের দাম আরও কমানো এবং আয়ুষ্মান ভারতের মতো প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করা। যদি এই দাবিগুলো পূরণ হয়, তবে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের পকেট থেকে চিকিৎসার খরচ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

