লেটেস্ট নিউজ

বাড়িতে শুভ সংকল্পের জন্য রান্নাঘরের গুরুত্ব কতটা জানেন? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

একটি বাড়িতে আমরা যতগুলোই ঘর তৈরি করি না কেন, বাড়ির আসল প্রাণস্পন্দন লুকিয়ে থাকে রান্নাঘরেই। এটি কেবল খিদে মেটানোর জায়গা নয়, বরং পুরো পরিবারের শক্তি ও স্বাস্থ্য প্রদানের এক পবিত্র ক্ষেত্র।

আমাদের বড়রা রান্নাঘরকে ‘অন্নপূর্ণা দেবী’র আবাসস্থল হিসেবে বিবেচনা করেন। তাই সেখানে বজায় থাকা ইতিবাচকতা এবং পরিচ্ছন্নতা আমাদের চিন্তাভাবনা ও বাড়ির শুভ সংকল্পের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। রান্নাঘর ঠিক থাকলে সেই বাড়ি শান্তিতে ভরে থাকে—একথা বলা মোটেও অতিশয়োক্তি নয়।

বাস্তু ও দিশার গুরুত্ব

রান্নাঘর কোন দিকে হওয়া উচিত, তা কেবল অন্ধবিশ্বাস নয়; এর পেছনে বৈজ্ঞানিক কারণও রয়েছে। সাধারণত দক্ষিণ-পূর্ব কোণ (অগ্নি কোণ) রান্নার জন্য সবচেয়ে উৎকৃষ্ট বলে মানা হয়, কারণ এটি অগ্নিদেবের স্থান। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক দিশায় রান্নাঘর থাকলে বাড়ির নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং শুভ সংকল্পগুলো পূরণ হয়।

রান্নাঘরে বাতাস ও আলোর চলাচল পর্যাপ্ত থাকলে, সেখানে তৈরি খাবার যেমন সুস্বাদু হয়, তেমনি স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় ইতিবাচক শক্তিও জোগায়। গৃহিণী যদি শান্ত মনে রান্না করেন, তবে সেই খাবার অমৃতের মতো হয়ে ওঠে এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসা ও সদ্ভাব বৃদ্ধি করে।

পরিচ্ছন্নতা ও মনের ওপর তার প্রভাব

রান্নাঘর আমরা যত পরিষ্কার রাখব, আমাদের চিন্তাধারা তত স্পষ্ট হবে। অগোছালো রান্নাঘর মানসিক চাপের সৃষ্টি করে, অন্যদিকে সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো জিনিসপত্র গৃহকর্তার সংকল্প শক্তি বাড়িয়ে দেয়।

প্রতিদিন রান্নাঘর পরিষ্কার রাখা এবং পুরনো অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরিয়ে ফেললে ঘরে লক্ষ্মীর কৃপা বজায় থাকে বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে রাতে এঁটো বাসন না রাখলে বাড়িতে শান্তি বিরাজ করে। আমাদের গ্রহণ করা খাদ্যই আমাদের চিন্তাভাবনা নির্ধারণ করে, তাই যেখানে সেই খাবার তৈরি হচ্ছে, সেই রান্নাঘরকে মন্দিরের মতো পবিত্র রাখা অত্যন্ত জরুরি।

পরিশেষে বলা যায়, একটি বাড়ির আর্থিক অবস্থা, স্বাস্থ্য এবং সুখ-শান্তি অনেকটাই রান্নাঘর ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে। রান্নাঘরে জ্বলে ওঠা উনুন বাড়ির সমৃদ্ধির প্রতীক। তাই কেবল আধুনিক চাকচিক্যের জন্য নয়, বরং ঐতিহ্য মেনে রান্নাঘর সাজালে এবং তাকে সম্মান জানালে আমাদের প্রতিটি শুভ সংকল্প সফল হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *