বিধায়কের ‘ছায়াসঙ্গী’র গুলিতে ঝাঁঝরা প্রোমোটার, রণক্ষেত্র হাওড়ায় জ্বলল বাইক – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
February 26, 202611:51 am
হাওড়া: ভরসন্ধ্যায় জনবহুল এলাকায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হলো ২৭ বছর বয়সী প্রোমোটার সফিকুল খানকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল হাওড়ার পিলখানা এলাকা। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার বাইক ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দিল উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় নামানো হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ।
সিসিটিভিতে ধরা পড়ল খুনের হাড়হিম দৃশ্য
বুধবার ভোরে পিলখানার একটি চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন সফিকুল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, দুই দুষ্কৃতী হারুন খান ও রোহিত হেঁটে এসে আচমকাই তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। প্রায় ৬ রাউন্ড গুলি সফিকুলের মাথা ও বুক ফুঁড়ে বেরিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
কাঠগড়ায় শাসক দল, ভাইরাল ছবি ঘিরে শোরগোল
এই খুনের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মূল অভিযুক্ত হারুন খান ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল যুব নেতা এবং উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করেছে বিজেপি। এমনকি বিধায়কের সঙ্গে হারুনের বাইকে চড়ে প্রচার করার একটি ছবিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, বিধায়কের মদতেই এলাকায় সমাজবিরোধীদের বাড়বাড়ন্ত হয়েছে। যদিও বিধায়ক গৌতম চৌধুরী এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, মিছিলে অনেকে আসেন, কে কী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত তা আগে থেকে বোঝা সম্ভব নয়।
তোলা না দেওয়াতেই কি এই পরিণতি?
নিহতের পরিবারের দাবি, প্রমোটিংয়ের কাজের জন্য হারুন ও তার দলবল সফিকুলের কাছে ২ লক্ষ টাকা তোলা চেয়েছিল। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় এই নৃশংস পরিণতি। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত হারুন ও রোহিত এর আগেও একাধিকবার জেলে গিয়েছে, কিন্তু প্রভাবশালী যোগের কারণে প্রতিবারই ছাড়া পেয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে।
রণক্ষেত্র পিলখানা, আক্রান্ত সংবাদমাধ্যম
সফিকুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। অভিযুক্ত হারুনের বাইক রাস্তায় বের করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় ক্ষুব্ধ জনতা। দমকল ও পুলিশকে কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। অভিযোগ উঠেছে, জনরোষকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে কিছু দুষ্কৃতী ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় এবং তাঁদের শারীরিক হেনস্থা করে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের হুঁশিয়ারি, দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও ফাঁসি না দেওয়া হলে তাঁরা আগামী বিধানসভা ভোট বয়কট করবেন।

