বিলাল এরদোগানের ঢাকা সফ, বাংলাদেশে তুরস্কের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও ভারতের উদ্বেগ
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের ছেলে বিলাল এরদোগান একটি ব্যক্তিগত বিমানে ঢাকা সফরে এসেছেন। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ গ্রহণের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিলালের সঙ্গে রয়েছেন সাবেক ফুটবলার মেসুত ওজিল এবং তুর্কি সহায়তা সংস্থা ‘টিকা’-র চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ এরেন। যদিও এই সফরকে ইসলামি ভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসেবে দাবি করা হচ্ছে, তবে এর নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সফরকালে বিলাল এরদোগান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াত ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির সমর্থিত একটি মেডিকেল সেন্টার উদ্বোধন করেন। এছাড়া প্রতিনিধি দলটি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের পরিকল্পনা করেছে। বাংলাদেশে জামায়াত ইসলামী এখন প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হওয়ায় তুরস্কের এই সরাসরি বিনিয়োগ ও ঘনিষ্ঠতাকে দলটির সঙ্গে আঙ্কারার ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় তুরস্কের প্যান-ইসলামিক প্রভাব বিস্তারের এই প্রচেষ্টাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
বিলাল এরদোগানের এই সফর এবং বাংলাদেশে তুরস্কের বাড়তে থাকা সক্রিয়তা দিল্লির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, জামায়াত ঘনিষ্ঠ প্রকল্পগুলোতে তুরস্কের বিনিয়োগ ভারতের নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি পাকিস্তানও জামায়াতের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে সচেষ্ট হওয়ায় ভারতের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই নতুন মেরুকরণ বাংলাদেশের বিদেশনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

